সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খানের পরিবারের জায়গা দখলের অভিযোগ
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলী খানের মা এবং বোনের জমি নবীনগর প্রেস ক্লাবের নামে দখল করা হয়েছে বলে জিডিতে বলা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলী খানের পরিবারের জমি প্রেস ক্লাবের নামে দখলের অভিযোগ ওঠেছে।
এ ঘটনায় আকবর আলী খানের ভাগনে নূর ই জাভেদ রোববার একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম।
জিডিতে বলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদ সড়কে অবস্থিত ২১২৪ মৌজার ৬৩৭৯ নম্বর দাগে ৬০ শতকের জায়গাটি সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খানের মা হাজেরা খান এবং বোন সালমা ইসলাম (নূর ই জাভেদের মা) যৌথভাবে মালিক।
সর্বশেষ বিএস খতিয়ানেও মূল্যবান জায়গাটি এ দুজনের নামে নিবন্ধিত এবং হালনাগাদ যাবতীয় খাজনাও পরিশোধ করা আছে।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর বিশাল ওই জায়গার উত্তর পাশের দেয়াল ভেঙে বেশ কিছু অংশ দখল করা হয়েছে। এবং সেখানে ‘নবীনগর প্রেস ক্লাবের প্রস্তাবিত নতুন ভবনের স্থান’ লেখা সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জিডির বাদী নূর ই জাভেদ বলেন, “আমরা নবীনগরে থাকি না, কুমিল্লায় থাকি। আর এই সুযোগে রাতের আঁধারে কে বা কারা দেয়াল ভেঙে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচ থেকে ছয় শতক জায়গা দখল করে নিয়েছে।
“বিষয়টির দ্রুত প্রতিকার চেয়ে থানার ওসি এবং ইউএনওর কাছে আবেদন করেছি। প্রয়োজনে বিষটি প্রধান উপদেষ্টাকেও জানাব।”
তিনি বলেন, “ইউএনওর সঙ্গে বিকালে আমরা বসেছিলাম। কিন্তু প্রেস ক্লাবের কেউ আসেননি। তিনি জমিটি মাপানোর কথা বলেছেন।”
এ বিষয়ে জানতে নবীনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. হোসেন শান্তির মোবাইলে ফোন করলে তিনি জানান, একটা মিটিংয়ে আছেন, পরে কথা বলবেন।
পরে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
তবে নবীনগর প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রেস ক্লাব কারও জায়গা দখল করেনি। যারা অভিযোগ দিয়েছেন, তারা প্রেস ক্লাবের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন। জায়গা নিয়ে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল এটার অবসান হয়েছে।”
নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে একটি জিডি পেয়েছি। জিডি করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তদন্ত করতে পারি না। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষ তদন্ত করতে পারি। আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত যখন অনুমোদন দেবে তখন আমরা তদন্তে যাইতে পারব।”
এ বিষয়ে নবীনগরের ইউএনও রাজীব চৌধুরী সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা দুইপক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। একজন সরকারি সার্ভেয়ার নিয়ে জায়গাটি মাপানো হবে। এরপর সেটি দুপক্ষকে নিয়ে মীমাংসা করা হবে।”
