রাজবাড়ীতে আগুনে পুড়ে ছাই পাটের গুদামসহ ২০ দোকান
“বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ রকম আগুন এই বাজারে আগে লাগে নাই।”
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় একটি বাজারে আগুন লেগে পাটের গুদামসহ ২০টি দোকান পুড়ে গেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহরপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের চারপাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে; ধোঁয়া উঠছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজে ব্যাস্ত। যাদের দোকানের মালামাল পুড়ছে তারা অক্ষত মালামাল সড়িয়ে নিচ্ছিলেন।
বহরপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় মানিক মোল্লা বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। তারপর আগুন দাও দাও করে আগুন জ্বলে ওঠে।
“তখন স্থানীয়রা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। আর যে যার যার মত বালতি কলসিতে পানি ভরে ছিটাতে শুরু করে।”
তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনিস বিশ্বাস বলেন, “আগুনে পাটের গোডাউন, তুলা ও কাপড়ের দোকানসহ অনেক দোকান পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।”
জামাল সরদার বলছিলেন, “বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ রকম আগুন এই বাজারে আগে লাগে নাই।”
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, “খবর পেয়ে রাজবাড়ী, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।”
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা ফায়ার সার্ভিনের এ কর্মকর্তার।
আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগুনে ২০টি দোকান পুড়ে গেছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়।”
বালিয়াকান্দির ইউএনও মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আগুনের খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ব্যাবস্থা নিয়েছে। তাদের অতিরিক্ত ইউনিটও এসে কাজ করেছে।
“কিভাবে আগুন লেগেছে তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি বিধি অনুযায়ি সহযোগিতা করা হবে।”
