মানুষের উৎপাতে পাখিরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে: জাবি উপাচার্য
অন্য বছরের মত এবারের পাখিমেলায়ও বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শণার্থীরা এসেছেন।
অতি উৎসাহী দর্শকের উৎপাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো এলাকা থেকে পাখি চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালটির উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়িয়ে পাখিমেলা ২০২৩ উদ্বোধন করেন তিনি।
পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়াতে এ আয়োজন চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।
উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা পাখিরা যে লেকগুলোতে বসে আমরা সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন বেড়া নেই বললেই চলে; ভেঙে ফেলা হয়েছে।”
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “কেন এত কাছে গিয়ে পাখি দেখতে হবে? একটু দূরে থেকেও তো দেখা যায়। কিন্তু আমরা নিয়ম মানছি না।”
“আমরা পাখিদের বিরক্ত করি। রাতে অনুষ্ঠান না করতে বলা হলেও অনেকে অনুষ্ঠান করে। এসব অনুষ্ঠানে আতশবাজিও ফুটানো হয়। ফলে পাখিরা ভয়ে এই এলাকাটা ছেড়ে চলে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারে এখনও কিছু পাখি আছে।”
এ পাখিগুলো যেন না চলে যায় সেজন্য সবাইকে সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ জানান উপাচার্য।
অন্যান্য বছরের মত এবারের পাখিমেলায়ও বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শণার্থীরা এসেছেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে আসে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ।
তার ভাষ্য, “পাখিমেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। কাগজের তৈরি অনেক পাখি দেখেছি, যেগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।”
এবারের পাখিমেলার আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে ২০০১ সাল থেকে এ মেলা হচ্ছে। গত দুই বছর করোনার কারণে মেলা করা সম্ভব হয়নি। পাখি সংরক্ষণ করতে আমরা পুরো দেশবাসীকে সচেতন করতেই এ মেলার আয়োজন করে থাকি। আমরা হয়তো পুরো দেশব্যাপী অনুষ্ঠানটি করতে পারব না, তবে আমাদের বার্তাটি পুরো দেশবাসীর জন্যই। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাখি একটি অনবদ্য সৃষ্টি, যা না থাকলে প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা হবে না।”
এদিকে ‘পাখপাখালী দেশের রত্ম, আসুন সবাই করি যত্ম’- প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী মেলায় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির আলোকচিত্র ও পত্রপত্রিকা প্রদর্শনী, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা এবং সবার জন্য উন্মুক্ত পাখিবিষয়ক কুইজের আয়োজন করা হয়।
পাখি সংরক্ষণে অবদান রাখায় সাঈদ হোসাইন, শাওন দেব এবং এএসএম আরিফ উল আনামকে ‘বিগ বার্ড বাংলাদেশ’ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
পাখিবিষয়ক প্রতিবেদন করে প্রিন্ট মিডিয়া ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক এ এনএম আমিনুর রহমান, অনলাইন ক্যাটাগরিতে হৃদয় দেবনাথ এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ক্যাটাগরিতে কেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীকে ‘কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
মেলার আহ্বায়কের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মো. নুহু আলম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ, বিশিষ্ট পাখি বিশারদ ইনাম আল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু এবং বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি জলাশয়ে অতিথি পাখিরা আসে। তবে এখন শুধু একটি জলাশয়েই পাখি আছে। ক্যাম্পাসে দর্শণার্থীর চাপ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের উৎপাতে অতিথি পাখির সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের অভ্যন্তরের জলাশয়টিতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত বলে সেখানেই শুধু কিছু পাখি আছে।
