১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোট গণনার সময় শিক্ষকের মৃত্যুতে জাবি উপাচার্যের শোক

“অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহার ও সৌজন্য আচার-আচরণে তিনি সকলের কাছে প্রিয় ছিলেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Sep 2025, 08:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:17 PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কর্তৃপক্ষ দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফোরদৌস আজ সকালে আকস্মিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

“শোক বার্তায় উপাচার্য বলেন, জান্নাতুল ফোরদৌসের অকাল মৃত্যুতে চারুকলা বিভাগ এবং তার পরিবারের অনেক ক্ষতি হল। তার অনুপস্থিতি অপূরণীয়। অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহার ও সৌজন্য আচার-আচরণে তিনি সকলের কাছে প্রিয় ছিলেন।”

উপাচার্য জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সভাপতি শামীম রেজা বলেন, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলে জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাসায় যান জান্নাতুল ফোরদৌস।

“এরপর তিনি আজ (শুক্রবার) ভোট গণনার কাজে সকাল সোয়া ৮টার দিকে জাকসু নির্বাচনের কার্যালয়ে আসেন। তিন তলায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় আসার পর দরজা দিয়ে প্রবেশ করার পথে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। এ সময় দ্রুত সাভারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

তার সহকর্মী নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থাপনার জন্যই আমার সহকর্মীর জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এই মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায় নিতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বাসায় গার্ড পাঠিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে ডেকে আনা হয়। এরপর তিনি সিঁড়ি বেয়ে সিনেট ভবনের তিনতলায় ওঠার সময় পড়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।

দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে জানাজা শেষে জান্নাতুল ফেরদৌসের কফিন দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়।