বরিশালে পাওনা টাকা নিয়ে সালিশে দুপক্ষের সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত
২২ বছর আগে ঘর নির্মাণ করার বকেয়া পাওনা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে বৈঠকের এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ২২ বছর আগের বকেয়া পাওনা নিয়ে সালিশি বৈঠকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন।
রোববার বিকালে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বরিশাল পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।
নিহত খোরশেদ আলম সিকদার (৫৭) ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় ট্যানারি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
আহতরা হলেন- তোতা সিকদার, রাকিব সিকদার, মোকেছদ সিকদার ও টুম্পা বেগম। তারা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছেন পৌর বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া।
পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “পাওনা টাকা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক ছিল। সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে একজন মারা যান। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
আহত রাকিব সিকদার বলেন, “২০০৪ সালে খোরশেদ আলম বাড়িতে একতলা একটি ঘর নির্মাণ করেন। ঘর নির্মাণে রাজমিস্ত্রি ছিলেন একই এলাকার জাহাঙ্গীর হাওলাদার। নির্মাণ কাজের সময় নিয়মিত হাজিরার টাকা দেওয়া হয়। ঘর নির্মাণ শেষ হওয়ার পর পরিমাপ করে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আরও এক লাখ ৫২ হাজার টাকা পাবেন।
“ওই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। পরে মীমাংসার মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। খোরশেদ দীর্ঘদিন বাড়ি আসেননি। এ বছর ঈদে বাড়িতে এসেছেন। সকালে জাহাঙ্গীর তার তিন ছেলেকে নিয়ে এসে খোরশেদের কাছে টাকা চান। না দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।”
তিনি বলেন, পরে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ নিয়ে সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে বকেয়া টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধের দাবি করেন জাহাঙ্গীর। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খোরশেদের বুকে লাথি ও মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে স্বজনরা এগিয়ে গেলে তিনিসহ চারজন আহত হন।
পরে খোরশেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান রাকিব সিকদার।
ঘটনাটিকে পারিবারিক বিষয় দাবি করে পৌর বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “৫০ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে মারামারিতে একজন মারা গেছেন। তবুও জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মামলাসহ সব কাজে নিহতের পরিবারকে সহায়তা করবে বিএনপি।”
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন ও সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হল।
