২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ছাত্র আন্দোলনে হত্যার মামলা: বাদী জানেন না আসামির নাম দিল কারা?

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ বলছে, বাদী নিরাপত্তাজনিত কারণে এমন কথা বলছেন।

বিডিনিউজ২৪

সৌরভ হোসেন সিয়াম. নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 May 2025, 12:08 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:46 PM

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জে আগের একটি হত্যা মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় নতুন আরেকটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে রিকাবুল ইসলাম নামের এক পোশাক ব্যবসায়ীকে।

আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে জুতার কারখানার কর্মচারী সজল মিয়া মারা যাওয়ার ঘটনার মামলায় আসামি করা হয় তাকে।

ওই ঘটনার নয় মাস পর ১৬ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় রাতে মামলাটি করেন নিহতের মা রুনা বেগম। এজাহারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ ৬২ জনের সঙ্গে আসামি করা হয় রিকাবুলকে।

এজাহারে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দেওয়া হয়েছে তার পরিচয়। যদিও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি তিরি রাজনীতিতে জড়িত নন।

দ্বিতীয় দফায় আবার আন্দোলনের সময়কার হত্যা মামলার আসামি হওয়ার তথ্য জেনে তার ছেলে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি মামলাটি নিয়ে খোঁজ-খবর করা শুরু করেন। তখন তিনি মামলার এজাহার ধরে বাদী রুনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মামলাটি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। 

পরে রাব্বি তার পরিচিত সংবাদকর্মীদের ঘটনাটি জানান। মোবাইল ফোনে তাদের দুজনের কথোপকথনের একটি রেকর্ডও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেন তিনি।

সেখানে রাব্বির প্রশ্নে রুনা বেগম বলেন, তিনি মামলায় অজ্ঞাত আসামি করতে চেয়েছিলেন কিন্তু নামগুলো কীভাবে এসেছে তা তিনি জানেন না। মামলায় কার কার নাম আছে তাও তিনি জানেন না। এমনকি রিকাবুল নামে কাউকে তিনি চেনেনও না, নামও শোনেননি কখনও।

নিহতের ঘটনার নয় মাস পর দায়ের করা এ হত্যা মামলার বাদী এমন তথ্যে মামলাটিতে আসামিদের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে পুলিশ বলছে, বাদী নিরাপত্তাজনিত কারণে এমন কথা বলছেন।

এজাহারে দেওয়া বাদীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রুনা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি নিজে থানায় গিয়ে মামলা করছি ঠিক। কিন্তু কারও নাম দেই নাই। আমি তো কাউরে চিনিই না, কার নাম দিমু?”

মামলার এজাহার থানার ভেতরেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে দাবি করেন তিনি।

এজাহার লেখার পর বাদী হিসেবে কেবল স্বাক্ষর করেছেন, ভেতরে কী লেখা আছে তাও ‘পড়ে দেখেননি’ বলেও দাবি তার।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহীনূর আলম বলেন, “বাদী নিজে সশরীরে থানায় এসে মামলাটি দায়ের করেছে। এখন হয়তো নিরাপত্তাজনিত কারণে মামলার আসামিদের বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করছেন।”

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৬ মে রাতে দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এ নারীর বড় ছেলে সজল মিয়া (২০) গত বছরের ২০ জুলাই বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি ওই এলাকার একটি জুতার কারখানার কর্মচারী ছিলেন।

এই হত্যা মামলার তালিকায় ৪০ নম্বর আসামি রিকাবুল ইসলাম (৫০)। সিদ্ধিরগঞ্জের সরদারপাড়া মাজাররোডের এ বাসিন্দা একজন পোশাক ব্যবসায়ী।

এর আগে আন্দোলনের সময় নিহত রিকশাচালক মো. তুহিন হত্যা মামলায় ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস জেলও খেটেছেন রিকাবুল। আরও একটি মামলায় তার নাম দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

জুলাই ফাউন্ডেশনের শহীদের তালিকাতেও রয়েছে সজল মিয়ার নাম। ফাউন্ডেশন থেকে পাঁচ লাখ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আরও দুই লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতাও পেয়েছে নিহতের পরিবার।

সজলের নিহত হওয়ার নয় মাস পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা এ হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামির তালিকায় অধিকাংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মামলায় অনেকের পদ-পদবিও দেওয়া হয়েছে।

হত্যাকাণ্ড সদর উপজেলার শিমরাইলে ঘটলেও আসামির তালিকায় আড়াইহাজার উপজেলার লোকজনও রয়েছেন। এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি ১০০ থেকে ১৫০ জন।

জুলাই অভ্যুত্থানের ১০ মাস পর নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলা, আসামি ৬২