রংপুরে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে বাইক চালকরা
শনিবার রংপুর মহানগরীর বেশ কয়েকটি পাম্প ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
রংপুরে জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শনিবার রংপুর মহানগরীর বেশ কয়েকটি পাম্প ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
এ রহমান পাম্প, ছালেক পেট্রোল পাম্প, শাপলা পেট্রোল পাম্প, সিটি পেট্রোল পাম্পসহ প্রায় সবগুলো পাম্পেই মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আবার অনেক পাম্প বন্ধ, মেশিন কালো কাপড়ে ঢাকা।
জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরেছেন নাইম আহমেদ। কিন্তু তেল পাননি। তেলের কারণে প্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষক মুরাদ হোসেন বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পেয়ে সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতি হচ্ছে। অনেকেই জরুরি কাজে যেতে পারছেন না।”
“লাইন এত বড় যে কখন তেল পাব বুঝি না। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়”, বলছিলেন আরেক গ্রাহক মানিক মিয়া।
এদিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশেই পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ শোভন বলেন, “সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি দিচ্ছে। যার কারণে তেল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। রংপুরে যা তেল রয়েছে সেটাও দ্রুত শেষ হওয়ার পথে।”
তিনি বলেন, “মোটরসাইকেল চালকরা অনেকে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে তেল মজুত করছেন। তাই তাদের ১০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থাকবে।”
যমুনা পেট্রোলিয়ামের রংপুর অঞ্চলের সেলস অফিসার মোহসিন আলী বলেন, “ঢাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যার কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ, জ্বালানি সংকটের কারণে শুধু মোটরসাইকেল চালকরাই নয়, পুরো পরিবহন খাতই চাপে পড়েছে।
