নিউ ইয়র্কের মঞ্চে রামমোহন রায়ের জীবনচিত্র ‘বহ্নিশিখা’
সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তির সংগ্রামে তার ভূমিকা উঠে এসেছে নাটকে।
ধর্মের দোহাই দিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বর্বতার বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন রায়ের সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে নিউ ইয়র্কে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘বহ্নিশিখা’।
শনিবার নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের মিলনায়তনে নাটকটি প্রদর্শিত হয়।
ম্যারিল্যান্ড ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কালচারাল ক্রিয়েশন’-এর এ প্রযোজনার রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যকার অনুতোষ সাহা। এটি ছিল নাটকটির তৃতীয় প্রদর্শনী। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সি. সংলগ্ন ম্যারিল্যান্ডে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘লুসি কালচারাল ক্রিয়েশন’-এর পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি নাটকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন আয়োজকরা। জানানো হয়, ভারত, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ঐতিহাসিক সত্যের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে এ নাটকে।
নাটকটির কেন্দ্রীয় কাহিনি আবর্তিত হয়েছে আড়াইশ বছর আগের সেই সময়কে কেন্দ্র করে, যখন ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে হিন্দু বিধবাদের জীবন্ত দাহ (সতীদাহ প্রথা) করা হতো। সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় কীভাবে এ নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তা নাটকের পরতে পরতে ফুটে উঠেছে।
নাটকে অভিনয় করেছেন খায়রুজ্জামান লিটন, মাসুদ হাসান, শুক্লা বিশ্বাস ও তনিমা মল্লিক। আবহ সংগীত পরিচালনা করেছেন শৌনক চট্টোপাধ্যায় এবং শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন দেবাঞ্জন বিশ্বাস। ঐতিহাসিক পোশাক, আলোকসম্পাত এবং মঞ্চে সতীদাহ প্রথার সেই করুণ ও শৈল্পিক উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ আবিষ্ট করে রাখে।
উপস্থিত দর্শকদের পক্ষ থেকে নাটকটির পরিচালক ও নাট্যকার অনুতোষ সাহাকে সম্মাননা পদক দেন নিউ ইয়র্কের নাট্য সংগঠন ‘থিয়েটার-একাত্তর’-এর প্রধান খাইরুল ইসলাম পাখি।
