ভারতের সঙ্গে সব চুক্তি ‘প্রকাশ ও পুনর্মূল্যায়নের’ দাবি লন্ডনে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একাধিক দাবি নিয়ে সভা করেছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বামপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলো।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব চুক্তি ‘প্রকাশ ও পুনর্মূল্যায়নসহ’ একাধিক দাবি নিয়ে সভা করেছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বামপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলো।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এসব দাবি তুলে রোববার লন্ডনে এ যৌথ সভা করেন তারা।
সভায় নেতারা বলেন, “দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কারো প্রতি বৈরী বা নতজানু নয় এমন স্বাধীন ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে। ভারতের সঙ্গে সব চুক্তি প্রকাশ ও পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।”
কমিউনিস্ট পার্টির যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক নিসার আহমদের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে অগাস্ট ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করা হয়।
সভায় বলা হয়, ‘অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। সবাইকে এ বিজয় ধরে রাখা ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগ্রাম জারি রাখতে হবে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে করা তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো:
১. অর্জিত বিজয়কে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের নিবর্তনমূলক সব ভিত্তির অবসান ঘটাতে হবে।
২. সব ধরনের নিবর্তনমূলক আইন ও ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
৩. সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে।
৪. সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগরে কোন বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা যাবে না।
৫. নির্বাচন কমিশন আইনকে সংস্কার করতে হবে, যাতে করে নির্বাচন কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে নির্বাচন করার ক্ষমতা পায়।
৬. শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক কৃষকসহ মেহনতি মানুষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
৭. আদিবাসীদের ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৮. ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী শক্তি কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার ভাস্কর্য ধ্বংস সাধনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাদের উপাসনালয়ে হামলার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৯. এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো ও বসুন্ধরাসহ সব দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
১০. বৈষম্য নিরসন ও সমতা অর্জনের লক্ষ্যে সব ধরনের সামাজিক ও আয় বৈষম্য নিরসনের পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবেদ আলী, বাসদ মার্কসবাদীর বাবলু খন্দকার, হুমায়ুন খান, আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ জাসদের শামীম আহমেদ, ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের শাহরিয়ার বিন আলী ও ওয়ালি রহমান এবং বাংলাদেশ সলিডারিটি গ্রুপের আখতার সোবহান মাসরুর।
