রেমিটেন্স বাড়াতে বাংলাদেশের ব্যাংক শাখা দাবি যুক্তরাষ্ট্রে
‘বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা: এনআরবির বিনিয়োগ এবং রেমিটেন্স প্রবাহ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ দাবি জানান বক্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপন, রেমিটেন্সের ওপর বোনাসের পরিমাণ ২.৫% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা এবং বিনিয়োগ-সম্পর্কিত রেমিটেন্সের বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে বৈধপথে রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়বে বলে মন্তব্য এসেছে নিউ ইয়র্কে এক সেমিনারে।
একইসঙ্গে ডলারের মূল্যমান সবক্ষেত্রে একই ধার্য করা হলে হুন্ডির প্রবণতা কমবে বলে উল্লেখ করেন প্রবাসীরা। এনআইডি কার্ডের বিকল্প হিসেবে পাসপোর্ট নির্ধারণের দাবিটি পূরণ হলে প্রবাসীদের বিনিয়োগের পথও সুগম হবে বলে উল্লেখ করেন কয়েকজন বক্তা।
সেন্টার ফর এনআরবি আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২২’ এর আওতায় বুধবার সন্ধ্যায় ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা: এনআরবির বিনিয়োগ এবং রেমিটেন্স প্রবাহ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় কুইন্সের একটি পার্টি হলে।
সেন্টার ফর এনআরবির প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপারসন শেকিল চৌধুরির সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম।
আলোচনা করেন সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী দেবশ্রী মিত্র, মানি ট্রান্সফারস কোম্পানি ‘সানম্যান এক্সপ্রেস’ এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মাসুদ রানা তপন, ম্যাককুয়্যার ক্যাপিটল ইনকের কর্মকর্তা আদিব চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী মো. মালেক, ফকু চৌধুরী, বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডেন্ট সুমন সাঈদ, কাতার থেকে আসা প্রবাসী বিনিয়োগকারী নূরল মোস্তফা, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী এবং শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব।
অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ ও লেখক ইশতিয়াক রুপু।
কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম সেমিনারে উপস্থাপিত দাবিগুলো সমর্থন করে বলেন, “হুন্ডির মাধ্যমে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও সেই অর্থ জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখে না। এমনকি ভবিষ্যতে সেই অর্থে বাংলাদেশে কোন কিছু করাও সম্ভব হবে না। কারণ সেটি কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত হবে।”
আয়োজক শেকিল চৌধুরী বলেন, “ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ছাড়াও মহামারীতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা। বাংলাদেশ তার বাইরে নেই। তবুও ডলারের মূল্যমানের যে ব্যবধান তা দূর করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসের গতি টেনে ধরা সম্ভব হবে।”
সেমিনারের অন্যতম আলোচক লিটন আহমেদ তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “করোনাভাইরাস মহামারীতে রেমিটেন্স-প্রবাহের চেয়ে ভাটা পড়েছে গত কয়েক সপ্তাহে। এর কারণ হচ্ছে বৈধপথে পাঠানো ডলারের বিনিময়ে গন্তব্যে পাওয়া যাচ্ছে ১০৭.৫০ টাকা। সঙ্গে যোগ হয় বোনাসের আড়াই পার্সেন্ট। অর্থাৎ ১১০ টাকা। অপরদিকে হুন্ডিতে পাঠানো ডলারের দাম পাচ্ছে ১২০ টাকার মতো। এজন্য অনেকেই লোভ সংবরণ করতে পারেন না। ফলে বৈধপথে রেমিটেন্সের প্রবাহ ক্রমান্বয়ে কমছে।”
‘সোনালী এক্সচেঞ্জে’ এর প্রধান নির্বাহী দেবশ্রী মিত্র বলেন, “হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে পরবর্তীতে কেউ যদি সেই অর্থে শিল্প-করখানা গড়তে চান, তাহলে সেটি বুমেরাং হবে। কারণ, বৈধপথে অর্থ বিদেশ থেকে পাঠানোর প্রমাণ ছাড়া সরকারের অনুমোদন মিলবে না কখনই।”
ইউএস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ইউএসবিসিসিআই) পরিচালক শেখ ফরহাদ উল্লেখ করেন, অনেক প্রবাসী তার সন্তানদের বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর দায়িত্ব দেন। সে সময় নতুন প্রজন্মের ওরা সোনালী এক্সচেঞ্জ কিংবা অন্য কোন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অ্যাপস খুঁজে পায় না। ফলে তারা জুম অথবা অন্য কোন বিদেশি অ্যাপের ওপর ভরসা করে টাকা পাঠাচ্ছে।এ বিষয়টিকেও সংশ্লিষ্টদের নজরে রাখতে হবে।
