জোটে কোনো বিভক্তি নাই, ঐক্য অটুট আছে: জামায়াতের পরওয়ার
শনিবার ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
এগারো দলীয় ঐক্যে ‘কোনো বিভক্তি নেই’ বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নাই, আমাদের ঐক্য অটুট আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত, ১১ দলীয় ঐক্য যে লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে।’’
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) লং মার্চে অংশ নেবে কিনা, শীর্ষনেতারা যাবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে পরওয়ার পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘শুনতে পাইলে তুমি জিজ্ঞেস করো, কালকে দেখো, শোনা কথার কোনো অ্যানসার হয় না। লংমার্চ তো আগামীকাল, তোমাকে কালকে লংমার্চের জন্য ওয়েট করতে হবে, তার (নাহিদ ইসলাম) কাছে জিজ্ঞেস করো।
“কালকে লংমার্চে কে যায় না যায়, অনেক লংমার্চে আমাদের জামায়াতের অনেকেই যাইতে পারে না। এই যে কালকে খান ভাই (রফিকুল ইসলাম খান) যাবেন না, অনেকের কাজ থাকতে পারে। ফলে একসাথে কেউ যেতে পারল আর পারল না, এটা লংমার্চের ঐক্যের সাথে কোনো কিছু যায় আসে না, ব্যক্তিগত অসুবিধা থাকতে পারে।’’
শনিবার ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতির সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, “উনার (প্রধানমন্ত্রী) কথা সত্য নয়, উনি কখনো বিরোধী দলীয় নেতাসহ পার্লামেন্টে ডাকেননি যে ‘আসেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য আপনাদের যে প্রস্তাব ওটা নিয়ে আমরা কথা বলি,’ একবারও ডাকেননি।
‘‘উনারা একদলীয় যে পথে হাঁটছেন ওখানে আমাদের হাঁটতে বলেন, তো ওখানে হাঁটা মানে হল ওই অপকর্মকে সাপোর্ট করা, আমরা ওখানে কেন যাব?’’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে শনিবার তৃতীয় দফার লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথে এই লংমার্চ হবে।
পরওয়ার বলেন, ‘‘১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।’’
বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে সকাল ৭টায় লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। ১১ দলের শীর্ষ নেতারা সেখানে বক্তব্য দেবেন।
গোলাম পরওয়ার জানান, ছয় শতাধিক গাড়ির বিশাল বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় শুরু হবে। পথে আরও গাড়ি যুক্ত হয়ে লংমার্চ দেড় হাজার গাড়ির বহরে পরিণত হবে।
শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট(বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা পৌঁছাবে লংমার্চ।
এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
