এটা কি বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ? কি দুঃসাহস: কাদের
“তারেক বিদেশে বসে আন্দোলনের ডাক দিলেই বাংলাদেশের খোমিনি স্টাইলে বিপ্লব হবে না। এটা সেই দেশ নয়,” বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তাকে ‘হাস্যকর’ বলছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, " এখন থেকে কেউ খাজনা দেবে না, ট্যাক্স দেবে না, ইউটিলিটি বিল দেবে না, এই ধরনের উদ্ভট কথা হাস্যকর। দেশ কি আরেকবার স্বাধীন হচ্ছে? এটা কি বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ? কি দুঃসাহস! মাথা খারাপ হয়ে গেছে এদের।”
রোববার ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন কাদের।
বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, "বিল না দিলে সব ধরনের লাইন কেটে যাবে সোজা কথা। খাজনা ট্যাক্স না দিলে শাস্তি পেতে হবে। অসহযোগ বলবেন, ব্যাংকের সাথে লেনদেন না করতে দলের লোকদের বলছেন। আপনাদের অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। আগেই হয়ে গেছে।
“এদের অনেকের ব্যাংকে লেনদেন আছে। তারা তারেক রহমানকের ডাক শুনতে গেলে তাদের নিজেদেরই সব যাবে। আমও যাবে, ছালাও যাবে। কাজেই তারেকের ডাকে তারা সাড়া দেবে এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই।"
যাবজ্জীবন সাজা মাথায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরে রাজপথে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, "বিদেশে বসে রিমোট কন্ট্রোলে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন, নিজে কেন উপস্থিত নেই? সাহস থাকলে নিজে আসেন। মোকাবিলা হবে রাজপথে। “
আন্দোলনে ‘ব্যর্থ’ বিএনপি ভোট বর্জনের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও ‘সঙ্কুচিত ও অনিশ্চিত’ করে ফেলছে বলে মনেও করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।
এক দফা দাবিতে আন্দোলন-অবরোধ শুরুর পর থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ঝটিকা মিছিল প্রসঙ্গে কাদের বলেন, “আজকে শুনলাম রিজভী চান্দিনার অন্ধকারে কুয়াশার মধ্যে পেছনে ১০/১২ জন নিয়ে মিছিল করছে। নিজস্ব উপায়ে ভিডিও করছে। করে টেলিভিশনে পাঠায়, ফেইসবুকে প্রচার করে। এটা কি আন্দোলন? তারেক বিদেশে বসে আন্দোলনের ডাক দিলেই বাংলাদেশের খোমিনি স্টাইলে বিপ্লব হবে না। এটা সেই দেশ নয়। হয় রাজপথে, না হয় জেলে থাকতে হবে আন্দোলনে। “
৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে ‘আশাবাদী’ কাদের বলেন, বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনের ভোটার উপস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে ‘হতাশ হতে হবে না’।
‘দলের কিছু করার নেই’
নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ড করে কেউ দলের প্রশ্রয় পাবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রার্থী কিংবা কোনো প্রার্থীর সহযোগী সহিংসতায় যদি জড়ায়, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যে আইনগত ব্যবস্থা নেবে আমরা সমর্থন করি। কোনো প্রকার নির্বাচনবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন বা প্রশ্রয় দেব না।”
আওয়ামী লীগ ‘শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচন চায় জানিয়ে কাদের বলেন, “একটা ভায়োলেন্স ফ্রি পিসফুল নির্বাচন, শেখ হাসিনা, আমাদের নেত্রী, তিনি সেটা নিজেই বারবার বলছেন।“
মাদারীপুরে কালকিনি উপজেলায় হামলায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শুক্রবার। নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের মাত্রা দেখে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।
কাদেরের ভাষ্য, “এখানে যারাই নির্বাচনবিরোধী কোনো প্রকার সহিংসতা তৎপরতা করবে, তারা যেই হোক, যারাই হোক, কারো ব্যাপারে পক্ষপাতের কোনো সুযোগ নেই।“
অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, উপ প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
