১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

দল চাইলে মেয়র নির্বাচন করতে ‘শতভাগ প্রস্তুত’ ইশরাক

“এও বলতে চাই, দল যদি অন্য যে কাউকে দেবে, তা আমার দলের ক্যান্ডিডেটকে জেতানোর জন্য আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।”

দল চাইলে মেয়র নির্বাচন করতে ‘শতভাগ প্রস্তুত’ ইশরাক

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। ছবি: শামছুল হক রিপন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 04:04 PM

Updated : 19 Oct 2026, 04:15 PM

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা দেওয়া ইশরাক হোসেন কি এখন সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ভোটে লড়বেন?

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা দিতে এসে এ প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য।

সোমবার দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।

ইশরাকের ভাষ্য, তার অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে দল যাতে বিব্রত না হয়, সেজন্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তার ‘যুদ্ধ’ চলবেই।

সেখানে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি কি এখন মেয়র পদে নির্বাচনের কথা ভাবছেন?

এ প্রশ্নের সরাসরি নির্দিষ্ট উত্তর দেননি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক।

তিনি বলেছেন, “মেয়রের নির্বাচনের বিষয়ে বলেছি, এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং আমাদের আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উনার এখতিয়ারভুক্ত এবং উনার একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে।

“আমি যেটা বলেছি যে ইতিপূর্বে ২০২০ সালে এই নির্বাচনটি আমি করেছি। নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে শুধু নয়, নগরীর বিভিন্ন সমস্যাগুলো নিয়ে আমি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী।”

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস।

ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর গেল ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে।

এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ।

অন্যদিকে ইশরাককে শপথ পড়ানোর দাবিতে ওইদিনই আন্দোলন শুরু করেন তার সমর্থকরা। তাদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়ে নগর ভবন। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তখন এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যিনি এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র। ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, দলের স্বার্থে তিনি ভোট করার জন্য ‘শতভাগ প্রস্তুত’ রয়েছেন। দল অন্য কাউকে প্রার্থী করলেও ‘শতভাগ’ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, কোতয়ালী (আংশিক) থানা এলাকার সংসদ সদস্যের ভাষায়, “আমাদের শুধু যে মৌসুমি যে কিছু কর্মসূচি হয় তা নয়, আমাদের যে স্ট্রাকচারাল প্রবলেম রয়েছে, এখানে যে একটা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অভাব এবং এতগুলা সংস্থা তাদের সমন্বয়—নানাবিধ সমস্যা।

“এগুলো নিয়ে আমি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছি, তাই আমি বলেছি যে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি—যদি দল আমাকে মনে করে যে, আমার নির্বাচন করা প্রয়োজন দলের স্বার্থে, তাহলে আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।

“পাশাপাশি এও বলতে চাই, দল যদি অন্য যে কাউকে দেবে, তা আমার দলের ক্যান্ডিডেটকে জেতানোর জন্য আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।”

আরও পড়ুন      

ইশরাক কেন ‘এক সপ্তাহের জন্য’ মেয়রের দায়িত্ব নিতে চান?

কত মাসের জন্য মেয়র হচ্ছেন ইশরাক?