০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গুপ্ত ও স্বৈরাচার’ আবার এক হয়েছে: তারেক রহমান

“১৯৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ১৯৮৬ সালেও ছিল। গত নির্বাচনেও তারা একসঙ্গেই ছিল; তলে তলে কাজ করেছিল,” বলেন সরকারপ্রধান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 10:05 PM

Updated : 01 Oct 2026, 10:05 PM

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর ‘এক হওয়ার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দল দুটি এর আগে কয়েকবার একসঙ্গে ছিল, সে কথা তুলে ধরে তিনি জনগণকে ‘পতিত স্বৈরাচার ও গুপ্তদের’ কাছ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ফেনীর ফুলগাজীতে এক অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় নেতাদের হাতে সম্মানি তুলে দিতে ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

জুলাই আন্দোলনের পরের পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমরা ‘স্বৈরাচার’ পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পরে কী দেখলাম? এই ‘গুপ্তবাহিনীর’ লোকজন বলল যে, তারা (পতিত স্বৈরাচার) যদি আসে, থাকে, কাজ করে, রাজনীতি করে, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি থাকবে কেমন করে?

“বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ১৯৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ১৯৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল; তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্য তাদেরকে গুপ্ত বলা হয়। আজ আবার তারা এবং ওরা, যারা পালিয়ে গেছে, এই স্বৈরাচার এবং গুপ্ত, আবার একসঙ্গে হয়েছে।”

এ ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, যারা স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

“কারণ এরা যদি দেশের দায়িত্ব পায়, তাহলে তারা আর যাই করুক, জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। যদি জনগণের জন্য তাদের কোনো কর্মসূচি থাকত, তাহলে তারা বলতে পারত যে, কী কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে? আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয়— এমন কোনো কর্মসূচির কথা তারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে নাই।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একাত্তর সালে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। পরে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্রের ওপর হুমকি এসেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই দেশের মানুষ বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে।”

“চব্বিশের আন্দোলনের সময় আবারও এই দেশের মানুষ, গণতান্ত্রিক মানুষ জেগে উঠেছিল এবং তারা আন্দোলনের মাধ্যমে ‘স্বৈরাচারকে’ এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। দেশে গণতন্ত্রের ধারা আবার চালু হয়েছে।”

জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা দেখেছি, গত ১৭ বছর গণতন্ত্র ছিল না। যেহেতু গণতন্ত্র ছিল না, সেজন্য মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় নাই। মানুষের সমস্যা, মানুষের শিক্ষা, মানুষের স্বাস্থ্য বা কৃষকদের সুবিধা বা মা-বোনদের সুবিধা— কোনো ব্যাপারে কোনো কর্মসূচি দেখিনি বিগত ‘স্বৈরাচারের’ সময়ে। এখানেই প্রমাণ হয় দেশে যদি গণতন্ত্র থাকে, দেশে যদি জনগণের কাছে সরকার জবাবদিহি করে, তাহলেই একমাত্র জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।

“জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন মানে দেশের পরিবর্তন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য আমাদের স্লোগান—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ আসুন, এই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলি। দেশের ২০ কোটি মানুষের কর্মীর হাতকে ৪০ কোটি কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।”

সরকারপ্রধান বলেন, “আসুন, দেশ গড়ার পালা শুরু হয়েছে। আর আমাদেরকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদেরকে আমাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।”

এ সময় নেতাকর্মীরা ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানাতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রের ধারা যদি আমরা অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে যেসব কর্মসূচি আপনারা আজ দেখলেন, তা বাস্তবায়ন হবে। গণতন্ত্রের ধারা যদি আমরা অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে এই যে তরুণ সমাজ, মেডিকেল কলেজ দাবি করেছে, তার সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

“যারা গণতন্ত্রের শত্রু, যারা নিজের জন্য রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ব্যক্তিদের মধ্যে সম্মানী ভাতা ও অসচ্ছল মানুষদের অর্থ সহযোগিতা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেহানা আখতার রানু বক্তব্য রাখেন।

এর আগে ফেনীর ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়াসামগ্রীও বিতরণ করেন তিনি।

সোনাগাজীর ডাকবাংলোতে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনও করেন সরকারপ্রধান।

ডাকবাংলোতে কিছু সময় অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

আরও পড়ুন

অরাজকতার চেষ্টায় কিছু কিছু দল: প্রধানমন্ত্রী

নানাবাড়ির স্মৃতি রোমন্থন প্রধানমন্ত্রীর