ইনুর সাজা বাড়াতে এ সপ্তাহেই আপিল করবে প্রসিকিউশন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, “চলতি সপ্তাহেই আমরা ইনু সাহেবের বিরুদ্ধে যে ১০ বছরের সাজা ট্রাইব্যুনাল দিয়েছিলেন, তার আপিল ফাইল করব। এ সপ্তাহেই করব।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা গত ২০ সেপ্টেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপিল করবেন।
গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায়ে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়। সেই ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, খালাস বা যে কোনো দণ্ডের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। এই সময়সীমা পার হলে আপিলের সুযোগ থাকে না।
মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখকে হত্যাসহ উসকানি, ষড়যন্ত্র, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও নিপীড়নমূলক কৌশলে সমর্থনের অভিযোগে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর মধ্যে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বাকি পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন, আটক, নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দেন ইনু।
ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক’ ট্যাগ দেন তিনি। একই সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
আর সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, ৪ অগাস্ট বিকালে আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে কারফিউ জারির মাধ্যমে গুলি চালানোর কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে অধস্তনদের নির্দেশ দেন ইনু।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
