সড়ক ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে সরকার: ফখরুল

“১১ জন ছাত্র মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছিল- ট্রেন এসে মেরে দিয়ে সবাইকে হত্যা করেছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 July 2022, 09:57 AM
Updated : 30 July 2022, 09:57 AM

দেশের সড়ক ব্যবস্থাকে সরকার নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের সেতু ও সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহের তিনি চমৎকার সুট-কোট পরে খুব সুন্দর করে বলেন যে, আওয়ামী লীগ যেটা করছে সেটা অতীতে কখনও হয় নাই। আপনি তো আজকে গোটা সড়ক ব্যবস্থাকে একটা নৈরাজ্যের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

“গতকালই দেখেছেন যে, আমাদের ছাত্ররা, ১১ জন ছাত্র তারা মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছিল- ট্রেন এসে মেরে দিয়ে তাদের সবাইকে হত্যা করেছে। এরকম অসংখ্য নজির প্রতিদিন আমরা দেখতে পাই।”

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে এ দেশের জনমানুষের স্বপ্ন ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা যারা এদেশের মানুষ যারা আজকে ৫০ বছর পরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করি, আমরা আশা করেছিলাম গণতান্ত্রিক দেশ পাব, আমরা আশা করেছিলাম যে এখানে একটা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে।

“কিন্তু সব কিছুকে এই আওয়ামী লীগ তাদের চুরি, তাদের ডাকাতি, তাদের লোভ; সেই লোভের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই কর্তৃত্বাবাদী শাসন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে, বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা একদম রসাতলে চলে গেছে।”

বিএনপিকে জনগণের দল বর্ণনা করে দলটির মহাসচিব বলেন, “বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যে দল জনগণকে স্বপ্ন দেখায়। নিঃসন্দেহে জনগণের আন্দোলনে জয়লাভ করে যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে অবশ্যই এসব সমস্যার সমাধান করব এবং এই দেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।”

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদেরকে আজ শপথ নিতে হবে যে আমরা সবাই এই ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের জন্য এক দফা, এক দাবি…। বাংলা সাহিত্যে একটা খনার বচন আছে- ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়’। এই যে আমরা কষ্ট পাচ্ছি এর জন্য দায়ী হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার, এর দায়ী হচ্ছে এই সরকার।

“‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিটি দেখেছেন। সেখানে কী বলেছে? ওই অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারকে নামাতে হলে কী করতে হবে, ‘দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান’। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই দড়ি ধরে মারি টান, মারি ধাক্কা, শেখ হাসিনার পতন হবে, এই সরকারের পতন হবে।”

‘লোড শেডিং কেন?’

মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন যা হিসাব দেখায় (সরকার), তাতে দেখা যায় যে প্রয়োজনের অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশ এখন তৈরি করেছে। কিন্তু আজকে লোড শেডিং কেনে? কারণ হচ্ছে দুর্নীতি-চুরি, মেগা চুরি।

“ক্যাপাসিটি চার্জ। তারা (সরকার) এই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও অন্যান্য বিদ্যুৎ প্ল্যাটের চুক্তি করেছে; যে চুক্তিতে বলা হচ্ছে যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও তাদেরকে টাকা দিতে হবে।”

সাতটি গ্রুপের নাম উল্লেখ করে ৩৮ হাজার ৪০৮ কোটি টাকার ক্যাপাসিটি চার্জ উত্তোলনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “এ রকম ১০টা গ্রুপ হাজার হাজার কোটি টাকা আপনাদের (জনগণের) পকেট থেকে বের করে নিয়ে গেছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ শুধু তাই না, আজকের পত্রিকায় খবর আছে, যা এলার্মিং। আমাদের সমুদ্র থেকে বা আমাদের দেশের মাটি থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য আমরা একটা সারচার্জ দেই, পয়সা দেই। তা দিয়ে একটা ফান্ড তৈরি করেছিল। সেটার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা এই সরকার গ্যাস কেনার জন্য নিয়ে গেছে। এটা আরেক বাটপারি, আরেকটা ডাকাতি।

“একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাম করে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে দেশের বাইরে। আরেকদিকে জ্বালানি হিসেবে এলএনজি-এলপিজি গ্যাস আমদানি করছে। কারা আমদানি করেছে? তাদের আপনারা চিনেন। এরা সব আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীরা। এভাবে তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা দেখেছেন চাঁদপুরের যে বিশ্ববিদ্যালয় (বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি হয়েছে। এই জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সেখানকার ডিসি নিজে চিঠি দিয়েছিলেন শিক্ষা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে যে, শিক্ষামন্ত্রীর আত্মীয় স্বজনরা- তারা ৩৬৪ কোটি টাকা লুট করে গেছে।

“এটা সবখানে সর্বক্ষেত্রে। আজকে তারা চুরি-ডাকাতি-রাহাজানির সবকিছুর সঙ্গে জড়িত। তাদের একমাত্র লক্ষ্য যে, বাংলাদেশের মাটিতে একটা তারা পোড়ামাটির নীতি গ্রহণ করেছে- সব কিছু তারা এখানে ধ্বংস করে দেবে।”

বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। কর্মসূচিতে লোড শেডিংয়ের প্রতিবাদ জানাতে দলের নারী কর্মীরা হারিকেন নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, সেলিমুজ্জামান সেলিম, মীর নেওয়াজ আলী, সাইফুল আলম নিরব, মহানগর দক্ষিণের হাবিবুর রশীদ হাবিব, ইশরাক হোসেন, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, যুবদলের মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, সুমন ভুঁইয়া, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক