আরপিও সংশোধনী বিল পাস যুক্তিসঙ্গত: কাদের
আওয়ামী লীগ কখনও বিরোধী দলে গেলে তখনকার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে কিনা এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধানকে ফলো করে; সরকারে থাকলে অথবা বিরোধী দলে।
ভোট বন্ধে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায়সঙ্গত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বুধবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথ সভার শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (এমেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৩’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “গতকাল সংসদে একটি আইন পাস হয়েছে। এটা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত, ন্যায়সঙ্গত। নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে, দুইটা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে, এই ১-২টা কেন্দ্র বন্ধ হতে পারে, কিন্তু গোটা নির্বাচন কেন বন্ধ করতে হবে? এটা অযৌক্তিক, এটা কোন গণতান্ত্রিক দেশে আছে, যারা বলে তাদেরকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই। এ আইনে সে বিষয়টাই স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশে এরকম, আমাদের কেন ভিন্ন কিছু করতে হবে?”
সেতুমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন ব্যবস্থাকে একটা প্রতিষ্ঠান থেকে আধুনিকায়ন করেছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করেছেন শেখ হাসিনা। সেটা প্রমাণ হয়েছে নির্বাচন কমিশন গঠনে। এবার ইলেকশন কমিশন গঠনের জন্য পার্লামেন্টে ইন্ডিপেন্ডেন্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার যে বিকাশ ধারা, এটি একটি গুণগত পরিবর্তন।”
ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্বাচন আর তিন-চার মাস বাকি। বিএনপি বিদেশিদের উপর তাকিয়ে আছে,ছে কার উপরে ভিসা নীতি প্রয়োগ করবে। পত্রপত্রিকায় দেখতে পাচ্ছি প্রতিনিধিদল আসছে। বিএনপি ভাবছে প্রতিনিধি দল এসেই সরকারকে নিষেধাজ্ঞা দিবে, ভিসা নীতি দিবে। তারা দিবাস্বপ্ন দেখছে। তারা এখনো নালিশের মধ্যে নিমগ্ন। নালিশটা পাবলিকের কাছে নয়, নালিশটা বিদেশিদের কাছে।
“বিদেশিরা আমাদের বন্ধু, তাদের কিছু বলার থাকলে আমাদের কাছে বলতে পারে, সেটা বন্ধুসুলভ আচরণ। এখানে কোনো প্রভুত্বের কিছু নেই। বিএনপি প্রভুদের কাছে নালিশ করে, বন্ধুদের কাছে নালিশ করে না। সব পরামর্শ আমাদের গ্রহণ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।”
আওয়ামী লীগ কখনও বিরোধী দলে গেলে তখনকার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে কিনা এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধানকে ফলো করে; সরকারে থাকলে অথবা বিরোধী দলে। চিরজীবন আমরা সরকারে ছিলামও না, অথবা নাও থাকতে পারি। বিরোধী দলে গেলেও আমরা সংবিধান মেনে চলি।”
তিনি বলেন, “সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যারা প্রচার করেছে, নির্বাচনে ফরমালি অংশ না নিয়ে আমাদের দেশে বিরোধী দলগুলো অপপ্রচার করছে। প্রত্যেকটা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। জনগণ লাইনে দাড়িয়ে সুশৃংখলভাবে ভোট দিয়েছে।
“এই ভোট প্রদানে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ, বিএনপি ও তাদের বন্ধুরা নির্বাচনে যোগ না দেওয়ার পরেও বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ, ছোটখাটো আরো কিছু দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৫০ শতাংশ ভোট টার্নওভার হয়েছে। এই অপপ্রচার একেবারে সত্য নয়। এটা নিতান্ত অপপ্রচার। এই অপপ্রচারের জবাবে আমি সত্য ঘটনা তুলে ধরছি।”
যৌথসভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাশ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম ও উপ দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক সায়েম খান বক্তব্য রাখেন।
