৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যদি ফাঁসিও হয়, আওয়ামী লীগই করব: প্রিজনভ্যান থেকে সাবেক এমপি তুহিন

“আমরা রাজনীতি করছি, আওয়ামী লীগ করছি। এটা আমার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 04:36 PM

Updated : 30 Sep 2026, 04:36 PM

জয় বাংলা ব্রিগেড নামে একটি সংগঠনের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অর্ন্তবর্তী সরকারকে ‘উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়েছে।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী বুধবার ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আগামী ১৫ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে তথ্য দিয়েছেন বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী।

শুনানি উপলক্ষে এ দিন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ চার নারী আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের আবার প্রিজনভ্যানে তোলা হলে সেখান থেকেই সাংবাদিকদের সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, “এলাকাবাসী জানে আমরা কোনো অন্যায় করি নাই, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত না, খুনের সাথে জড়িত না। শুধু রাজনীতি করেছি। হ্যাঁ, আমরা আওয়ামী লীগ করি, আওয়ামী লীগ করছি, আওয়ামী লীগ করব। আওয়ামী লীগ করার অপরাধে যদি ফাঁসিও হয়, আওয়ামী লীগই করবো, ওকে। জেল কত খাটাবেন?

“আমরা রাজনীতি করেছি, কোনো হত্যার সাথে সম্পৃক্ত না। আমরা অন্যায় করি নাই, পার্টি করেছি। এটা কি অপরাধ? আওয়ামী লীগ করার অপরাধে আজকে কতদিন এই মেয়েরা, কি কারণে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা নিরাপরাধ তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। আমরা রাজনীতি করছি, আওয়ামী লীগ করছি। এটা আমার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।”

এ সময় তার সঙ্গে থাকা তিন নারীও নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে তাদের বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালত প্রাঙ্গন ছাড়ে।

মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে গত ২১ জানুয়ারি শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৪৬ জন পলাতক রয়েছেন।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম জয় বাংলা ব্রিগেড প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, একই সংগঠনের বরিশাল বিভাগের কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।

শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গত বছরের ২৭ মার্চ আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক। তদন্ত শেষে সেই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।

এরপর ১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। গত ১৪ অক্টোবর পলাতকদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।