০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসদীয় কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী-হুইপ, প্রথা মনে করিয়ে দিলেন স্পিকার

সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখার ক্ষেত্রে চিফ হুইপকে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।

সংসদীয় কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী-হুইপ, প্রথা মনে করিয়ে দিলেন স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 10:39 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

জাতীয় সংসদের কয়েকটি স্থায়ী কমিটিতে হুইপদের সভাপতি এবং প্রতিমন্ত্রীদের অন্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে সদস্য করায় এ সংক্রান্ত প্রথা মনে করিয়ে দিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, সংসদীয় কমিটি গঠনের ‘স্পিরিট’ বা মূল ভাবনা হল কমিটির সভাপতি হবেন বেসরকারি সদস্য। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সদস্য হিসেবে থাকবেন। 

এর বাইরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখার ক্ষেত্রে চিফ হুইপকে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে বলেছেন স্পিকার।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পাঁচটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন এবং দুটি কমিটি পুনর্গঠনের পর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে উদ্দেশ করে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে চিফ হুইপ সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমতিক্রমে কমিটিগুলো গঠন ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন। পরে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্পিকার বলেন, “মাননীয় চিফ হুইপ একটি বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই কমিটিগুলো যখন গঠন করা হয়, স্পিরিট হল কমিটির চেয়ারম্যান বেসরকারি সদস্য হবেন এবং মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদে যারা আছেন তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন। 

“কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি যে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সদস্য পদে প্রতিমন্ত্রী, হুইপ এ ধরনের উচ্চপদস্থ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু স্পিরিট হল এবং সংসদের প্রথা হল বেসরকারি সদস্যরাই সদস্য পদে থাকবেন এবং মন্ত্রীও একজন সদস্য থাকবেন।” 

হাফিজ উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়টি ভবিষ্যতে কমিটি গঠনকালে বিবেচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

বর্তমান সংসদে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়া সরকারদলীয় চার হুইপকে চারটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে রকিবুল ইসলাম বকুল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

আখতারুজ্জামান মিয়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। জি কে গউছকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

এর বাইরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য হলে তাকে তার নিজের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সদস্য রাখা হয়। অন্য মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে তাদের রাখার নজির সাধারণত নেই।

আরও পাঁচ স্থায়ী কমিটি

এদিন সমাজকল্যাণ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, রেলপথ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পাঁচটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নতুন গঠিত পাঁচটি কমিটির কোনো একটির সভাপতিও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যকে দেওয়া হয়নি।

জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি।

এ পর্যন্ত ৪৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং নয়টি বিষয়ভিত্তিক।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের মো. শাহজাহানকে।

তিনি বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটিরও সভাপতি।

সমাজকল্যাণ কমিটিতে আরও রয়েছেন ফারজানা শারমীন, সরওয়ার জামাল নিজাম, মোহাম্মদ সালমান ওমর, আরিফা সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, মো. মুজিবুর রহমান, মো. মাজেদুর রহমান ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গাজীপুর-৫ আসনের এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে।

এই কমিটিতে সদস্য হয়েছেন মো. নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, মো. জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে খুলনা-৫ আসনের মোহাম্মদ আলী আসগারকে।

কমিটিতে রয়েছেন হাবিবুর রশিদ, মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো, মো. আবু সাইদ চাঁদ, মো. রবিউল আওয়াল, মিজানুর রহমান, মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান ও মো. গোলাম রব্বানী।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে।

কমিটিতে আরও রয়েছেন এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আব্দুল গফুর।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে গাজীপুর-৩ আসনের এস এম রফিকুল ইসলামকে।

কমিটিতে সদস্য হয়েছেন এম এ মুহিত, মো. আব্দুস সালাম, আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, ইকরামুল বারী টিপু, মো. আনোয়ারুল হক, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মো. আব্দুল বারী সরদার ও মাহমুদা আলম মিতু।

দুই কমিটিতে সদস্য বদল

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে দুই সদস্য পরিবর্তন করা হয়েছে।

এ কে এম ফজলুল হক মিলন ও মুন্সী রফিকুল আলমের বদলে মাজহারুল ইসলাম ও মো. ফরিদুল কবীর তালুকদারকে সদস্য করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন রাজশাহী-৩ আসনের মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতেও একজন সদস্য পরিবর্তন করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার বদলে দলটির আরেক সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানকে সদস্য করা হয়েছে।

এ কমিটির সভাপতি টাঙ্গাইল-৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।