ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে 'বিধি ভেঙেছেন' তারেক, ইসি চুপ কেন: পাটওয়ারী
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ তারা প্রশাসনের ‘বৈষম্যমূলক নীতি’ দেখতে পাচ্ছেন।
কড়াইল বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি আইন ও বিধান ‘সরাসরি লঙ্ঘন করার পরও’ নির্বাচন কমিশন নিশ্চুপ কেন তা জানতে চেয়েছেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রশাসনের ‘বৈষম্যমূলক নীতি’ দেখতে পাচ্ছেন।
বুধবার দুপুরে প্রতীক পাওয়ার পর ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছিলেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আজকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটা প্রশ্ন তুলেছিলাম। আপনারা জানেন তিন মাস আগে কড়াইল বস্তিতে আগুন লেগেছিল। জনাব তারেক রহমান গতকাল সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দিবেন। এটা নির্বাচনি আইন এবং বিধানের সরাসরি লঙ্ঘন। আমরা দেখতে পাচ্ছি নাহিদ ইসলামকে শোকজ দেওয়া হয় কিন্তু তারেক রহমান গতকাল যখন সরাসরি এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন তখন নির্বাচন কমিশন এখানে নিশ্চুপ থেকেছেন।"
প্রশাসনের প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “প্রশাসন একদিকে ঢলে যাচ্ছে। এখানে বৈষম্যমূলক নীতি হচ্ছে অর্থাৎ তারেক রহমানের বেলায় এক নীতি আর অন্যান্য প্রার্থীদের বেলায় এক নীতি।"
রাজধানীর মহাখালীতে টিঅ্যান্ডটি কলোনির মাঠে মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজধানীতে নিজের নির্বাচনি আসনে কড়াইল বস্তিবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন তারেক রহমান।
সুযোগ পেলে তাদের প্রত্যেকের জীবনমানের উন্নয়নে থাকার জন্য ফ্ল্যাট দেওয়াসহ সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়াও চান।
ঢাকা -৮ আসনের জনগণের সামনে দুটি ‘এজেন্ডা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করে’ পাটওয়ারী বলেন, "ঢাকা-৮ আসনে আমরা দুইটি এজেন্ডা নিয়ে কাজ করব। এর মধ্যে একটি হল, শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আমি শুরুতেই সরকার এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন জানাচ্ছি।
"আমাদের দুই নাম্বার এজেন্ডা হল, শহীদ ওসমান হাই ভাই ইনসাফের ঢাকা-৮ গড়তে চেয়েছিলেন। আমরাও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ইনসাফের একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। যাতে আর কোন ব্যক্তিকে হাদি ভাইয়ের মতো হারিয়ে যেতে না হয়। আগামীকাল শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করব।"
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদির আসন থেকে নির্বাচন করছে পাটওয়ারী।
রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, "আমরা কোন পেশী শক্তি এবং টাকা নির্ভর রাজনীতি করতে চাই না। আমরা মনে করি গণঅভ্যুত্থানের পরে সুন্দর একটি প্রক্রিয়ার দিকে বাংলাদেশ যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।"
তার শোকজের প্রসঙ্গ টেনে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইন করার জন্য আমি একটি ব্যানার লাগিয়েছিলাম। সেই ব্যানারে কোন প্রতীক ছিল না। তারপরও নির্বাচন কমিশন আমাকে শোকজ করে।
"সেই ব্যানারটা সিটি করপোরেশনের লোক, বিএনপির লোক, ম্যাজিস্ট্রেট একসাথে গিয়ে তুলেছে। এখন আমাদের প্রশ্ন হল, প্রশাসন এবং বিএনপি যদি একসঙ্গে কাজ করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা বিধানটা করবে কে?"
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী প্রচার শুরু সময় আসার আগেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারে নামায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে তার কারণ জানাতে নোটিস দেন রিটার্নিং অফিসার।
আরও পড়ুন
