নির্বাচনের আগেই তারেক ফিরবেন, আশায় ফখরুল
“আমরা সবাই তাই চাই না? উনি আসবেন, আমাদের নেতৃত্ব দেবেন, আমাদের পথ দেখাবেন,” নেতাকর্মীদের বলেন বিএনপি মহাসচিব।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই জনগণ তারেক রহমানের দেশে ফেরার ‘অপেক্ষায় আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার বিকালে শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমাবেশে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সামনে এখন লড়াই হল বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব লন্ডনে বসে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। গোটা বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছে যে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে।”
“তার আগে গোটা বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব দেশে ফিরে আসবেন। তাই না? আমরা সবাই তাই চাই না? উনি আসবেন, আমাদের নেতৃত্ব দেবেন, আমাদের পথ দেখাবেন।”
ফখরুল যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে লন্ডন থেকে সমাবেশে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি ২০০৮ সাল থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আসুন আজকে আমরা এই শপথ গ্রহণ করি, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারেক রহমান সাহেবের নেতৃত্বে এই দেশকে সত্যিকার অর্থেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে স্বপ্ন ছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নগুলোকে আমরা বাস্তবায়িত করি… একটা সত্যিকার অর্থেই সুখী সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করি।”
‘কারো কাছে মাথা নত করব না’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আজকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশে বিভক্তি সৃষ্টি করবার। আমাদের পাশের দেশে ভারতবর্ষে এই ফ্যাসিস্ট আশ্রয় নিয়েছে, তার লোক নিয়ে সেখান থেকে সে মাঝে মাঝেই হুমকি দিচ্ছে যে তারা বাংলাদেশে আক্রমণ করবে। শুধু তাই নয়, এখানে তারা বিভিন্নভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।
“আজকের এই সমাবেশ থেকে আমাদেরকে শপথ দিতে হবে যে, কোনোদিনই আমরা হাসিনাকে আর এই দেশে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ দেব না। আমাদের শপথ নিতে হবে, আমরা কারো কাছে কোনোদিন মাথা নত করব না। আমরা আমাদের দেশকে নিজেরাই গড়ে তুলব। এটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের তারেক রহমান সাহেব, সেই পথ তিনি দেখাচ্ছেন। তিনি স্লোগান দিয়েছেন–সবার আগে বাংলাদেশ। ওই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।”
দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কার–এ প্রশ্ন রেখে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই দায়িত্ব হচ্ছে আপনাদের। এই দায়িত্ব হচ্ছে ছাত্রদের। মেধা এবং বুদ্ধিমত্তার চর্চা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নতুন একটি দেশ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শাহবাগ মোড়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের এই সমাবেশ শুরু হয় বিকাল ৩টায়।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাক নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্র দলের সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসার মো. ইয়াহিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বক্তব্য দেন।
ছাত্র দলের সাবেক নেতাদের মধ্যে নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও রাশেদ ইকবাল খান উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে।
