তাজরীন মালিকের সভাপতিত্বের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত মায়া
গত ১১ মে দেলোয়ার ঢাকা উত্তর মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জুলাইয়ে তা অনুমোদন পায়।
তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মৎস্যজীবী লীগের এক অনুষ্ঠানে যাননি প্রধান অতিথি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
দেলোয়ারের অতীতের ঘটনা শুনে মায়া অনুষ্ঠানটি এড়িয়ে গেছেন বলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।
তবে মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আজগর লস্কর বলছেন, মায়া ‘অসুস্থ’ হওয়ায় অনুষ্ঠানে যাননি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মায়া ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ কিছুই না বলে রসিকতাচ্ছলে বলেছেন, তিনি অসুস্থ।
শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভা ছিল।
গত ১১ মে ওই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন দেলোয়ার। দুই মাস পর জুলাইয়ে সেই কমিটি অনুমোদন পায়।
সভায় ‘কিছুক্ষণের মধ্যে’ প্রধান অতিথি আসবেন বলে কয়েকবার ঘোষণা এলেও শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মায়া। ফলে মঞ্চের মাঝে তার চেয়ারটি শূন্য রেখেই অনুষ্ঠান হয়।
মৎস্যজীবী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেলোয়ার উত্তরের সভাপতি এটা মায়া জানতেন না। যে কারণে তিনি প্রধান অতিথি হয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার যখন তিনি জানতে পারেন, তখনই না বলে দেন। তবে সংগঠনের নেতারা তা প্রকাশ করেননি।
কেন্দ্রীয় এক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মূলত দেলোয়ারের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণেই আজকে মায়া ভাই আসেননি, সেটা আমাদের নেতাদের মায়া ভাই ফোন করে বলেছেন।"
এক দশক আগে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার।
২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনসে আগুনে পুড়ে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়।
শ্রমিকদের বের হতে না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে দেলোয়ার ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এখন তার বিচার চলছে।
মামলার আসামি হয়ে কয়েক বছর কারাগারে কাটানো দেলোয়ার এ বছরই হঠাৎ করে মৎস্যজীবী লীগের ঢাকার একটি কমিটির সভাপতি হলে তা নিয়ে সংগঠটিতেই প্রশ্ন ওঠে।
দেলোয়ারের কারণেই মায়া অনুপস্থিত ছিলেন কি না- প্রশ্ন করা হলে মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আজগর লস্কর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনি আলোচনা সভার কাছাকাছি চলে আসছিলেন, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় চলে গেছে। আপনারা যেটা শুনছেন সেটা ভুল।”
মায়াকে ফোন করলে তিনি হাসতে হাসতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার পেটে সমস্যা, ওষুধ নিয়ে আস।”
