২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মৎস্যজীবী লীগে তাজরীন মালিক দেলোয়ারের পদ পাকা হল

মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি সায়ীদুর রহমানের প্রশ্ন, “দেলোয়ার সভাপতি হওয়ায় কী সমস্যা?”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2022, 03:57 PM

Updated : 29 Jul 2022, 03:57 PM

সাভারের তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনকেই ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি পদে চূড়ান্ত করল মৎস্যজীবী লীগ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এ সহযোগী সংগঠন বৃহস্পতিবার নতুন কমিটি অনুমোদন করে। তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ারকে ঢাকা উত্তরের সভাপতি ও আবদুল জলিলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

গত ১১ মে ঢাকা মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনে দেলোয়ার ও জলিল নেতা নির্বাচিত হন। দুই মাস পর সেই কমিটির অনুমোদন পেল।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সায়ীদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজগর লস্কর ও কার্যকরী সভাপতি সাইফুল আলম মানিকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, দুই নেতাকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ৮৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে এবং সেই তালিকা কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।

সায়ীদুর রহমান শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কমিটি আমরা গতকাল অনুমোদন দিয়েছি। চিঠি তাদের হাতে পৌছে গেছে।"

এক দশক আগে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে অনুমোদন পাওয়া মৎস্যজীবী লীগে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য মে মাসের আগে পাওয়া যায়নি।

মৎস্যজীবী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও সভাপতি সায়ীদুর রহমানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকার সাভারেরআশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়।

পুরানো খবর:

তাজরীন মালিক দেলোয়ার মৎস্যজীবী লীগের ঢাকার কমিটিতে শীর্ষ পদে

শ্রমিকদের বের হতে না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে দেলোয়ার ও তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

ওই মামলায় সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৩০৪ (ক) ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধজনক নরহত্যা’ ও ‘অবহেলার কারণে মৃত্যুর’ অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও কয়েক বছর পর জামিনে মুক্তি পান দেলোরার। বিচার চলার মধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে তার পদ পাকা হল।

দেলোয়ারকে সভাপতি করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে সায়ীদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে বহু লোক জেলে থেকে নেতা হয়েছেন। ভারতের বহু লোক জেলে থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাইলে দেলোয়ার সভাপতি হওয়ায় কি সমস্যা?”

আর মামলার বিষয়ে তার ভাষ্য, “দেলোয়ারের মামলা চলমান, সে দোষী কিনা সেটা কোর্ট দেখবে। রায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কি তাকে দোষী বলতে পারি?"

এর আগে ২২ মে মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন দেলোয়ার কিভাবে মৎসজীবী লীগের নেতা হন, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।