২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

জুলাই সনদ: সময় বাড়িয়েও মতামত মেলেনি ৬ দলের

মতামত পাঠায়নি নাগরিক ঐক্য, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2025, 11:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:38 PM

জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়ার বিষয়ে মতামত জানাতে দুই দিন সময় বাড়িয়েও ছয় দলের কাছ থেকে সাড়া পায়নি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

কমিশন বলছে, তারা ৩০টি দলের কাছে মতামত চেয়েছিল। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ২৪টি দল মতামত জমা দিয়েছে।

মতামত না পাঠানোর তালিকায় রয়েছে— নাগরিক ঐক্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোট।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ২০ অগাস্টের মধ্যে মতামত পাঠানোর কথা ছিল দলগুলোর, পরে তা ২২ অগাস্ট বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ঐকমত্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী বলেন, "শুক্রবার বিকাল ৩টার মধ্যে ২৪টি রাজনৈতিক দল মতামত জমা দিয়েছে।"

বাকি সাতটি দলের জন্য সময় বাড়ানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুপুর ৩টা পর্যন্ত সময় থাকলেও কেউ হয়ত পুরো দিনটা সময় নিতে পারেন।"

দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে গত ১৬ অগাস্ট সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়ার কপি ৩০টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠায় ঐকমত্য কমিশন।

মতামত পাওয়ার পর সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়ার ওপর মাসের শেষ সপ্তাহে দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনায় বসার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।

জুলাই সনদ ‘সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে’ কার্যকরের পাশাপাশি তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করেছে ঐকমত্য কমিশন।

পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ফসল হিসেবে প্রণয়ন করা এ সনদের ‘পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত খসড়ায়’ দলগুলোর কাছে এমন অঙ্গীকার চায় কমিশন।

একই সঙ্গে বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলেও এ সনদের বিধান, প্রস্তাব বা সুপারিশ প্রাধান্য পাবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এমন আটটি অঙ্গীকারনামা রেখে দলগুলোর কাছে সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া পাঠায় কমিশন।

পাশাপাশি এ সনদের যেসব সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, দেরি না করে সেগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এতে।

আইনি সুরক্ষাসহ এ সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আগেই অঙ্গীকার চায় রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করে আসা এ কমিশন।

সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশন সংশ্লিষ্টরা বহুল আলোচিত এ সনদে সই করবেন।

বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মতামত না পাঠানোর কারণ জানতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

মতামত পাঠিয়েছে যারা 

১. লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি 

২. খেলাফত মজলিস 

৩. আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি 

৪. জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) 

৫. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি 

৬. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস 

৭. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  

৮. জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি 

৯. বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি 

১০. জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট 

১১. ১২ দলীয় জোট, 

১২. আম জনতার দল

১৩. গণফোরাম 

১৪. বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ 

১৫. জাতীয় গণফ্রন্ট 

১৬. বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)

১৭. জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি 

১৮. গণসংহতি আন্দোলন 

১৯. বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ 

২০. বাংলাদেশ লেবার পার্টি 

২১. জাকের পার্টি 

২২. ভাসানী জনশক্তি পার্টি

২৩. বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও

২৪. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)