০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

‘কর্তৃত্ববাদী’ শাসনে যাওয়ার সব আয়োজন পূর্ণ করেছে সরকার: শফিকুর রহমান

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘দলীয় লোকজন’ নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেন জামায়াত আমির।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Nov 2026, 08:02 PM

Updated : 06 Nov 2026, 08:02 PM

সরকার ‘কর্তৃত্ববাদী’ শাসনে যাওয়ার সব আয়োজন পূর্ণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় মেনে নেওয়া উচিত সরকারের। কিন্তু এখন সেই রায় মানা হচ্ছে না। মূলত তারা আবার কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ফিরে যাওয়ার সকল আয়োজন পূর্ণ করে ফেলেছে।”

রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আয়োজনে এক আলোচনা সভায় কথা বলছিলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যে ১৩৩টা অধ্যাদেশ জারি করে গিয়েছিল- সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রেওয়াজ অনুযায়ী তা উত্থাপন হওয়ার কথা, তা হয়েছেও। কিন্তু আলোচনায় সব আসেনি বরং তা থেকে এমন ২০টা অধ্যাদেশ বাতিল করে দেওয়া হল, যা থাকলে ফ্যাসিবাদ আবার নতুন করে ফিরে আসতে পারত না।”

শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘দলীয় লোকজন’ নিয়োগের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের মত প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়।”

র‌্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আগের বাহিনীর লোকবল ও কাঠামো বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন হলে সময় নিয়ে আলোচনা করে নতুন বাহিনী গঠন করা যেতে পারে। বর্তমান সদস্যদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে দিয়ে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কাঠামো গঠন করা উচিত।”

বিরোধী দলের সাত দফার দাবিতে চলমান লং মার্চ, বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে তার ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোর প্রতিবাদ না করলে বিরোধী দল হিসেবে জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। এ কারণেই তারা সাত দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।’

“এসব দাবি কোনো দলের একক দাবি নয়, এগুলো জনগণের দাবি। সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া জনগণের মুক্তির পথ খোলা নেই।”

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, “৭ নভেম্বরের শিক্ষা হচ্ছে- দেশ পরিচালনায় জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে। যারা জনগণের আকাঙ্খা বুঝতে ব্যর্থ হবে, তাদের পরিণতি ইতিহাসে বারবার ফিরে আসবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।”

দিবসটি থেকে রাজনীতিকরা শিক্ষা নিতে পারেননি দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, “১৭৫৭ সালে সালে সিপাহীরা বিদ্রোহ করেছিল; কেন করেছিল? তাও হয়ত চাপা পড়ে গেছে। ৭২ সালে মসনদে বসেই শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব যে কাজটি অত্যন্ত ন্যাক্করজনকভাবে করলেন, এটি হচ্ছে ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে সমস্ত ইসলামী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

“অথচ ৭০ এর নির্বাচনে এরা সকলেই সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচন অংশগ্রহণ করেছেন। কার প্ররোচনায় কেনো তিনি এটা করতে গেলেন? ৭০ নির্বাচনে তিনি স্পষ্টত ও বারবার বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হলে কোরআন সুন্নাহবিরোধী কিছুই করবে না। অথচ ইসলামী সংগঠনগুলাকেই নিষিদ্ধ করে দিলেন।”

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির কমিটির আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।