২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘পিআর’ পদ্ধতির বিরোধিতাকারীরাই নির্বাচন পেছাতে চায়: জামায়াতের শাহজাহান

“একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগ স্টাইলে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী স্টাইলের কোনো নির্বাচন জনগণ আর হতে দেবে না।”

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Sep 2025, 09:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, যারা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচনের বিরোধিতা করছে, তারাই ফেব্রুয়ারির ভোট ‘পিছিয়ে দিতে’ চায়। 

শুক্রবার চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী শাখা আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপিকে ইংগিত করে তিনি এ কথা বলেন। 

শাহজাহান বলেন, “গোটা জাতি উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। কেউ কেউ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, জামায়াত নাকি নির্বাচন পেছাতে চায়। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জামায়াত সবার আগেই তিনশ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কাজ শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো নির্বাচনি কার্যক্রম চোখে পড়ে না। 

“যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, প্রয়োজনীয় সংস্কারে বাধাগ্রস্ত করছে এবং পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের বিরোধিতা করছে, নিজেদের ভরাডুবি জেনে তারাই মূলত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চায়।”

জামায়াতসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। 

অন্যদিকে বিএনপি বলে আসছে, সংবিধান সংশোধনের কাজটি কেবল নির্বাচিত সংসদই করতে পারে, অন্য কেউ নয়। আর পিআর পদ্ধতির দাবিতে যারা আন্দোলন করছে, তারা ‘যথাসময়ে নির্বাচন চায় না’ বলে বিএনপির অভিযোগ। 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “একটি শ্রেণি আওয়ামী লীগ স্টাইলে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী স্টাইলের কোনো নির্বাচন জনগণ আর হতে দেবে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার শেষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।”

জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনূস জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ফ্যাসিবাদী ও তাদের দোসরদের দৃশ্যমান বিচার করবে এবং পাচারকৃত টাকা ফেরত আনবে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবে। বর্তমান সরকার কোনো দলীয় সরকার নয়। 

“কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি ড. ইউনূসের আশপাশে অনেকে একটি দলের পকেটে ঢুকে গেছে। সরকারে ভেতরে থেকে অনেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এটি মেনে নেবে না জনগণ। ফ্যাসিবাদের মতই জনগণ তাদেরকে প্রতিরোধ করবে।” 

তিনি বলেন, “সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, তা হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে। প্রতিবন্ধকতা তৈরিকারীদের চিহ্নিত করা হবে। নির্বাচনের জন্য এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। দেশে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়নি। 

“অনেকে বলছে, আমরা রাজপথে কেন নেমেছি? আমরা বলছি, রাজপথের আন্দোলন ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদকে বিদায় দিয়েছে দেশের জনগণ। কাজেই রাজপথে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটা আমরা বাস্তাবায়ন করব।” 

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে মহানগর শাখার অ্যাসিটেন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। 

জামায়াতের পাঁচদফা দাবি হল–জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং ‘স্বৈরাচারের’ দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।