২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বৈশ্বিক করোনা পাঠ

বৈশ্বিক করোনা পাঠ
করোনাভাইরাসে মৃতদের জন্য ব্রাজিলের সাও পাওলোতে সারি সারি নতুন কবর খোঁড়া হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

নিলুফার পারভীন

Published : 20 Apr 2020, 12:01 AM

Updated : 01 Jul 2022, 05:36 PM

'কোভিড-১৯' যা 'নভেল করোনা' নামে পরিচিত এ ভাইরাসটি বর্তমান শতাব্দীর একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে যে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছিল তা পরবর্তীতে ইতালি, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন থেকে শুরু করে ইতিমধ্যেই বিশ্বের ২১৩টি রাষ্ট্রে সংক্রমিত হয়েছে। এ ভাইরাসটি ইতিমধ্যেই সংক্রমিত করেছে ২২ লাখের বেশি মানুষ । বিশ্বব্যাপী মারা গেছে ১ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সাম্প্রতিক করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় আছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি বলে খ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি মানুষ এবং ইতিমধ্যে মারা গেছে ৩৭ হাজারেরও বেশি। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনের মতো রাষ্ট্রগুলো। স্পেনে ২০ হাজারের বেশি, ইতালিতে ২২ হাজার, ফ্রান্সে ১৮ হাজার, যুক্তরাজ্যে ১৪ হাজার মানুষ মারা গেছে।

চীনে মারা গেছে ৪ হাজার মানুষ। ইরানে আক্রান্ত প্রায় ৭৬ হাজারের বেশি এবং মারা গেছে প্রায় ৪ হাজারের অধিক লোক। ভারতে ১১ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং মারা গেছে ৪৮৮ জন। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ এবং মারা গেছেন ৯০ জনের বেশি।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে 'বৈশ্বিক মহামারী' হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারী বর্তমান বিশ্বে একটি অভূতপূর্ব পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশগুলো এ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষার জন্য লকডাউন করছে বিভিন্ন শহর। একে একে বন্ধ হয়ে গেছে নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, লন্ডন প্রভৃতি বড় শহরের যাবতীয় কার্যক্রম। সারা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের বিমান চলাচল বন্ধ, বন্ধ হচ্ছে স্থল সীমান্ত ও জলপথ। বাতিল হয়ে গেছে অলিম্পিক, কান, ইউরোপীয় ফুটবল, আইপিএল-এর মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানগুলি। শেয়ারমার্কেটগুলো ধসে পড়ছে এবং পৃথিবী পড়তে যাচ্ছে আরেকটি অর্থনৈতিক 'মহা মন্দার' কবলে এরকমই ভবিষ্যত বাণী করছে বিশ্বব্যাংক। এসব অবিশ্বাস্য ঘটনাকে দেখে মাঝে মাঝে একে দুঃস্বপ্ন অথবা কোনো সায়েন্স ফিকশনের মুভির মতো ঘটনা বলে মনে হলেও বাস্তবের অবস্থা ভিন্ন। কেউই বলতে পারছে না কবে আমরা এই সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবো? কিভাবে পাবো? করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরবর্তী ঠিক কী ধরনের পৃথিবীতে আমরা ফিরব? এছাড়াও করোনা-কালে আরও কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা হয়েছে যেগুলো আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবীকে পাল্টে দেবার রূপরেখা তৈরি করবে। সংক্ষেপে এ বিষয়গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সর্ম্পকিত ধারণা
প্রথমত, বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তিগুলো বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখার স্বার্থে অস্ত্র প্রতিযোগিতা করছে নিরন্তর। প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন অস্ত্র তৈরি হচ্ছে, বাড়ছে সামরিক বাজেট এবং কেনা হচ্ছে নতুন নতুন যুদ্ধাস্ত্র। কিন্তু, এগুলো কি সত্যিই রাষ্ট্রোর নিরাপত্তা দেয়? বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রগুলোতে নাগরিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু? যখন নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা ভেঙ্গে পড়েছিল, ইতালিতে ও স্পেনের প্রবীণেরা অসহায় মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিল, যখন নিউ ইয়র্কে, লন্ডনে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা প্রতিরোধক মাস্ক ও পিপিই এর জন্য বিক্ষোভ করছিল তখন এ প্রশ্নটিই মনে আসে যে এটি কি সেই পশ্চিমা সভ্যতার মডেল যা এতোদিন ধরে গড়ে উঠেছে মানবিক নিরাপত্তাকে অবহেলা করে?

দ্বিতীয়ত, কথায় কথায় আমরা বিশ্বায়নের দোহাই দেই। করোনাভাইরাসও বিশ্বায়নকেই প্রমাণ করে। কেননা চীনের উহান থেকে যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে তা ছড়িয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী । কিন্তু বৈশ্বিক করোনা মহামারীর এ চ্যালেঞ্জের মুখে বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলো ব্যর্থ হয়েছে। আর ব্যর্থ হয়েছে বৈশ্বিকভাবে সংক্রমণের মোকাবেলা করতে ও বৈশ্বিক সমাধান বের করতে। এ ক্ষেত্রে সব বড় বড় দেশগুলি জাতীয়ভাবে চেষ্টা করছে সংকটটাকে সামাল দিতে। বৈশ্বিক সহযোগিতার কথা মুখে বললেও কার্যত দেখা যায়নি তেমন কোনো বৈশ্বিক উদ্যোগ। জাতিসংঘ, ইইইউ, জি-৭, ওআইসি, প্রভৃতি থেকে নেয়া হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ। বরং সারা বিশ্ব থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বিশেষ ব্যবস্থায় স্বদেশে নিয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিদেশী শিক্ষার্থী ও অনাগরিকদের দেশ থেকে চলে যাবার কথা বলেছেন। তাই 'বৈশ্বিক সহযোগিতা' বৈশ্বিক পর্যায়ে দেখা মেলেনি এ করোনা-কালেও। বরং কানাডা ও জার্মানি, অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যে মার্কিনিরা তাদের অর্ডার করা চিকিৎসা সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কলাকৌশলে। ভারতকে ওষুধ সামগ্রীর ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডিন্টের হুমকির কথাও এক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য। এক্ষেত্রে এ প্রশ্ন আসে যে, বৈশ্বিক সহযোগিতার কথা কি কেবল বৃহৎ শক্তিগুলোর ছোট ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে ছলে বলে নিজ স্বার্থ আদায়ের কৌশল মাত্র?

তৃতীয়ত, করোনা-মহামারী বিশ্বের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন এসেছে। কিছুদিন আগে একটি রির্পোটে দেখা গেছে যে, বিশ্বের অধিকাংশ জনগণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্রমশ হতাশ। তারা মনে করে যে গণতন্ত্র জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানে অধিকাংশে ব্যর্থ হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে দেখা যায় চীন, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া, সৌদি আরব ও ফিলিপাইনের মতো 'কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলি' তথাকথিত উদার গণতান্ত্রিক দেশগুলো যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালী ও স্পেন প্রভৃতি দেশগুলো থেকে দক্ষভাবে করোনাভাইরাস মহামারী সামলাতে পারছে। এসব দেশগুলো জনগণের ওপর কঠোর হয়েছে এবং এর সুফলও তারা পেয়েছে। চীনে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে তারা অত্যন্ত কঠোরতার মাধ্যমে 'সামাজিক বিচ্ছিন্নতার' নীতি অনুসরণ করেছে। চীনে নাগরিকদের উপর 'মোবাইল ট্র্যাকিং' ব্যবহার করে এ মহামারীর সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এটি আপাত দৃষ্টিতে 'মানবাধিকার লংঘন' বলে মনে হলেও সংক্রমণ রোধে তা কার্যকরী হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো যে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিন শেষ হলে ভবিষ্যতে নাগরিক সুরক্ষায় কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলো কি সামনে চলে আসবে? উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতা কি জনগণকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আরও বিমুখ করে তুলবে?

চতুর্থত, বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি এবং এককেন্দ্রিক বিশ্বের নেতৃত্বের দাবিদার 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের' নেতৃত্বের বিষয়টি আবারও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়েই নয় বরং এই প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম করোনাভাইরাসকে 'চায়নিজ ভাইরাস' বলে উপহাস করেন এবং মহামারী রোধের অগ্রাধিকার বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে অগ্রাহ্য করেন। এর মাশুল তাকে দিতে হচ্ছে।  যুক্তরাষ্ট্র এখন করোনাভাইরাসের 'হটস্পটে' পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণের হার বেড়েই চলছে। প্রধান শহর নিউ ইয়র্কেই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে সর্বাধিক এবং তা পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। শুধু নিউ ইয়র্কেই মারা গেছে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি হাজার মানুষ। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন এপ্রিলের সামনের দুই সপ্তাহ এই মৃত্যু সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে। তিনি স্বদেশবাসীকে প্রস্তুত হতে বলেছেন এ শোক ও দুর্যোগ সহ্য করার জন্য। শুধু তাই নয় করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণের জন্য তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দায়ী করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন এর অর্থায়ন সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য। বিপরীতে চীন বিভিন্ন দেশে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে তারা সরবরাহ করছে ওষুধ, মাস্ক, পিপিই এবং অন্যান্য সামগ্রী। চীনের এ ভূমিকা ভবিষ্যত বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের নেতৃত্বকে আরও সামনে নিয়ে আসবে এতে কোনও সন্দেহ নেই।

অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
করোনাভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় 'সামাজিক বিচ্ছিন্নতা'। সমস্ত মানুষ এ কারণেই আজ গৃহবন্দি। বিশ্বের ২১৩ টি দেশের কোটি কোটি মানুষ আজ গৃহে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে থমকে গেছে কলকারখানা, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটনসহ অধিকাংশ অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ। বিশ্বব্যাংক ইঙ্গিত করছে আরেকটি 'বৃহৎ অর্থনৈতিক সংকটের' যেখানে বিশ্বব্যাপী দারিদ্রের কবলে পড়বে কোটি মানুষ। ইতিমধ্যেই উন্নত বিশ্বে বেকারত্ব বাড়ছে, চিকিৎসা খাতে ব্যয় এবং জীবন যাত্রার ব্যয় নির্বাহ করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছে হাজারো মানুষ। বিশ্বব্যাপী এ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে কঠিন চাপে আছে বাংলাদেশ, ভারতসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো। বিশেষত বাংলাদেশ নির্ভরশীল তার অভিবাসী শ্রমিক এবং গার্মেন্টস খাতের উপর। করোনাভাইরাস সংক্রমণে প্রবাসে শ্রমিকরা কর্মহীন হচ্ছে এবং এর মধ্যেই লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে। গার্মেন্টস খাত এ পর্যন্ত অর্ডার হারিয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের মত এবং প্রতিনিয়ত এর পরিমান বাড়ছে। এতে করে এদেশের ১.৪২ মিলিয়ন পোশাক শ্রমিকের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাওয়ালা, শ্রমিকেরা গৃহে অন্তরীণ থাকতে বাধ্য হচ্ছে এবং অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন এ সংকটজনক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কিন্তু এটা যে যথেষ্ট নয় তা বলাই বাহুল্য। করোনাভাইরাস মহামারী বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও সংকটের মুখে ঠেলে দিবে।

দ্বিতীয়ত 'চতুর্থ শিল্পবিপ্লব' যা ধীরে ধীরে পা রাখছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা করোনাভাইরাস যুগে আরও ত্বরান্বিত হবে। উন্নত দেশে অনেক দিন থেকেই তারা বিভিন্ন সেক্টরকে ডিজিটাল টেকনোলজি এবং অনলাইন কার্যক্রমের আওতার মধ্যে নিয়ে এসেছে। এ কারণে করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত চলছে অনলাইনে। মাইক্রোসফ্ট, গুগল, আমাজন, ফেইসবুক প্রভৃতি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। অনলাইন বিজনেসে মানুষ তাদের দৈনন্দিন জিনিসপত্রের অর্ডার দিচ্ছে। রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হাসপাতাল থেকে হোম ডেলিভারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থা শুধু উন্নত বিশ্বেই নয় বরং উন্নয়নশীল বিশ্বেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবস্থা শুধু  এখানেই থেমে থাকবেনা ভবিষ্যত পৃথিবীতে 'চতুর্থ শিল্পবিপ্লব' খুব দ্রুতই প্রসারিত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামাজিক আচার-আচরণ ও বিধি ব্যবস্থা
সামাজিক দিক থেকে এই ভাইরাস মহামারীর অভিজ্ঞতা মানুষের জন্য একটি বৈশ্বিক সংগ্রাম ও বেদনার করুণ কাহিনী। বর্তমানে আমরা যে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে বসবাস করি সেখানে পরিবারের সদস্যরা শুধু একটি দেশেই ছড়িয়ে নেই বরং চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা লেখাপড়ার তাগিদে ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী। কাজেই করোনা সংক্রমণের টেনশন নিজ দেশ, নিজ পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে তা স্থান করে নিয়েছে বিশ্ব পরিমণ্ডলে। একারণেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক দুর্দশার এক মহাকাব্য। প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন শহর লকডাউন হচ্ছে। জলপথ, স্থলপথ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে, বিমান যাতায়াত প্রায় বন্ধ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে দেশগুলো একে অন্যের কাছ থেকে । এমনকি চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও আগে এ অবস্থা কখনও কেউ দেখেনি । বিংশ শতাব্দীতে মানুষের এই দুর্দশা, অসহায়তা কেউ কল্পনাও করেনি। এই দূরে থাকা, যোগাযোগহীনতা, বিচ্ছিন্নতাই হলো এই মহামারীর সবচেয়ে বড় সংকট।

দ্বিতীয়ত, নভেল করোনাভাইরাস এতোটাই সংক্রামক যে এটা মানুষকে বাধ্য করছে শুধু গৃহবন্দি নয়, বরং সকল সামাজিক মেলামেশা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপ থেকে দূরে থাকতে। এর মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। বিংশ শতাব্দীর এই যুগে হাজার হাজার মানুষের এই অসহায় মৃত্যু মানুষকে আতংকিত করে তুলছে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ তাদের প্রিয়জনকে শেষ বারের মতো বিদায় জানিয়েছে ভিডিও ফোনে। প্রিয়জন ও কাছের মানুষের মৃত্যু এবং মৃত্যুর সময় একান্ত প্রিয়নজনের কাছে উপস্থিত থাকতে না পারার বেদনা মানুষকে শোকে বিহবল করেছে। এমনকি শেষকৃত্যও করতে হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত পরিসরে। এসব ঘটনা প্রিয়জনের জন্য সহ্য করা কঠিন। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ। ভাইরাস আক্রান্ত অনেক ব্যক্তি সুস্থ হলেও পরবর্তীতে ট্রমার মধ্যে চলে গেছেন। অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন। এতো চাপ ও টেনশন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়াও হাজার হাজার শিশু কিশোর তাদের লেখাপড়া, খেলাধুলা সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গৃহবন্দি। এর ফলে তাদের মধ্যে জন্ম দিচ্ছে হতাশা, অবসাদগ্রস্থতা। এছাড়াও উন্নয়নশীল দেশে গৃহের অভ্যন্তরে অন্তরীণ থাকার কারণে পারিবারিক সহিংসতা ও নারীর প্রতি নির্যাতন চরমভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সর্বোপরি, নারীর কাজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এই মহামারী। কেননা, এ রোগের সংক্রমণের হাত থেকে পরিবারকে বাঁচাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে একাধিক কাজের বোঝা বাড়ছে নারীর। পাশাপাশি নিজ গৃহে স্বামী বা পুরুষ পার্টনারদের কাছ থেকেও নারীরা গুরুতর সহিংসতার শিকার হচ্ছে ।

তৃতীয়ত, বিল গেটস করোনাকে 'গেট লেভেলার' বলে অভিহিত করেছেন। কেননা এটা ধনী, দরিদ্র সকল মানুষকে সমহারে আক্রান্ত করছে। এ রোগে সাধারণ মানুষ যেমন আক্রান্ত হয়েছেন তেমনি আক্রান্ত হয়েছেন প্রিন্স চার্লস, বরিস জনসন, সোফিয়া ট্রুডো, অভিনেতা টম হ্যাংকস, রিটা উইলসন, ব্রিটিশ অভিনেতা ইদ্রিস এলবো, অ্যাথলেট নরম্যান হান্ট, জেসন কলিন্স প্রমুখ। যেহেতু এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনও কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি তাই রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি, বিজনেস টাইকুন সবাই এ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। হয়তো ভবিষ্যতে এ রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার হলে এই অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। তবে, এটা ঠিক যে, বিশ্বের ধনী এবং শক্তিশালী দেশগুলো প্রথমেই এ টিকার সুবিধা ভোগ করবে। দরিদ্র দেশগুলোতে এর সুফল পেতে সময় লাগবে এবং ইতিমধ্যে এ দেশগুলিতে মৃত্যুর পাহাড় জমতেই থাকবে।

চতুর্থত, করোনাভাইরাস মহামারী ধর্ম ও ধর্মীয় উপসনার ধরনও পাল্টে দিয়েছে। মানুষ যেকোন সংকটে সমবেত হয় মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা তাদের নিজস্ব উপাসনালয়ে। এ পর্যন্ত যেহেতু সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার মূলমন্ত্র তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপাসনালয়ে সমবেত হওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রয়োজনবোধে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারী আদেশে উপাসনালয়ে সমবেত হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কা ও মদীনাতে কারফিউ জারী করা হয়েছে। মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া সাময়িকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ বছর মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হজ হবে কিনা এ বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটি শুধু ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই নয় বরং হিন্দু, খ্রিস্টান ও ইহুদী প্রতিটি ধর্মের ক্ষেত্রেই ইতিমধ্যেই এ ধরনের বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে। যেমন: অতিসম্প্রতি ইস্টার উৎসবে লাখ লাখ খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী চার্চে সমবেত হতে পারে নি। বরং ভ্যাটিকানসহ সব চার্চ অনলাইনে তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে। ভারতে পূজার অনুষ্ঠান জন-সমাবেশ হওয়া ছাড়াই সম্পূর্ণ হয়েছে। এ ঘটনাগুলো ধর্মপ্রাণ মানুষকে অনেকক্ষেত্রেই অসহায় করেছে, তারা তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পরিবর্তনে দ্বিধাদ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
আধুনিক যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। মানুষের বিজ্ঞান অভিযান শুধু পৃথিবীতেই আটকে থাকেনি বরং মানুষ চাঁদে গেছে বহু আগে, এখন রওনা দিয়েছে মঙ্গলসহ আরো নতুন নতুন গ্রহের দিকে। মহাশূন্য বসতি স্থাপনের কথা ভাবছে। এমনকি হলিউডের কল্প মুভিতে চিত্রিত হচ্ছে মানুষ যুদ্ধ করছে মহাকাশ থেকে আগত এলিয়েনদের সাথে কিন্তু বর্তমান কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে যে পৃথিবীর বর্তমান তাবৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আজ সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করছে অতি ক্ষুদ্র অদৃশ্য এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে যা কিনা সময়ের সাথে প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলে ফেলছে । কিন্তু তারপরও আশার কথা শোনা যাচ্ছে। মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসন, সানোফি প্রভৃতি কোম্পানিগুলো তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে টিকা আবিষ্কারের কাজে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টিকা তৈরীর প্রক্রিয়ায় মানুষের উপর ট্রায়াল করছে মডার্না কোম্পানি। অতিসম্প্রতি চীনে সীনোভেক বায়োটেক ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি টিকার উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং তা মানব দেহে প্রথম টিকা প্রদানের অনুমতি পেয়েছে । এছাড়াও ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য বড় বড় দেশগুলো তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন টিকা আবিষ্কারের কাজে। হয়তো অতি শিগগিরই এ রোগের টিকা তৈরি হয়ে যাবে। আমাদের প্রশ্ন বিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিকদের প্রাণপণ প্রচেষ্টার বিষয়ে নয় বরং প্রশ্ন হচ্ছে পৃথিবীর মানুষের জীবন বাঁচানোর গবেষণায়, জীবন বাঁচানোর সরঞ্জামের সংখ্যা বৃদ্ধি, হাসপাতালের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য উন্নত দেশগুলো কত বরাদ্দ করছে আর কতো অর্থ তারা বিনিয়োগ করছে, অস্ত্র, সামরিক বাহিনী, যুদ্ধাস্ত্র তৈরী বা মহাশূণ্যে অভিযান পরিচালনা করতে। এই বিষয় নিয়ে ভাবনার এখনই সময় হয়েছে।

প্রকৃতি ও পরিবেশ
মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশকে প্রতিনিয়ত দূষিত করতে করতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। পৃথিবীর ওজন স্তর ফুটো হয়ে গেছে, জলজ পরিবেশ বিপন্ন, এন্টার্কটিকার বরফ গলে যাচ্ছে – এই হচ্ছে বর্তমান অবস্থা। এ অবস্থায় অনেক পশুপাখী ক্রমশই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। বায়ূদূষণ, পানিদূষণ আর শব্দদূষণে মানুষের জীবন আজ বিপর্যস্ত। একারণেই অনেক পরিবেশবাদীরা করোনাভাইরাসকে পরিবেশের জন্য আশির্বাদ হিসাবে দেখেছেন। কেননা, পৃথিবীব্যাপী এই ফোর্সড লকডাউনের কারণে পরিবেশ দূষণ অনেক কমে গেছে, সবুজ হয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল আর আকাশ হয়ে যাচ্ছে আরও নীল। পৃথিবীর এই অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এর প্রয়োজন ছিল বলে অনেক পরিবেশবাদীরাই মনে করেন।

আমাদের শিক্ষণীয় পাঠ
পরিবারই প্রথম : এই সংক্রমণ আমাদের পরিবারের সাথে নিজ গৃহে বসবাসের কথা বলে। এটি শিক্ষা দেয় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ বা অসুস্থ মানুষের স্বার্থেই অপেক্ষাকৃত তরুণ যার হয়তো সংক্রমণে ক্ষতি বা মৃত্যুর সম্ভাবনা কিছুটা কম তাকেও সচেতন হতে হবে। তাকেও ঘরে থাকতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এই শিক্ষা নিজের পরিবারের জন্য শুধু নয় বরং নিজ সম্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য। একে অপরের জীবন বাঁচাতে পারলে পুরো দেশই বাঁচবে। ফলে এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই আসলে সামাজিক চেতনার বিচ্ছিন্নতা নয় বরং তা সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনকেই সুদৃঢ় করে তোলে।

বিলাসিতা বর্জন/ আত্মত্যাগ : করোনা কালে আরেকটি শিক্ষণীয় দিক হলো যে, মানুষের বাঁচতে খুব বেশি জিনিসের প্রয়োজন হয়না। বিলাসিতা, বিনোদন, অহেতুক খরচ এগুলো ছাড়াও মানুষের জীবন চলতে পারে। মহামারীর সময় মানুষের প্রয়োজন কেবল খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা, যত্ন আর ভালোবাসা। এটি আমাদের এই শিক্ষাও দেয় যে, অর্থকে মানব কল্যাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মহামারী এবং দুর্যোগের সময় অসংখ্য মহৎ প্রাণ ব্যক্তি, সেলিব্রেটি, দাতব্য সংস্থাগুলো মানুষের সাহ্যযার্থে এগিয়ে এসেছে। এটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার সেই চিরন্তন উদাহরণকেই আবার প্রস্ফুটিত করে।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা: পরিবেশকে বাদ দিয়ে মানুষ টিকে থাকতে পারবেনা। মানুষকে নিজের প্রয়োজনেই পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে। মৌলিক পরিচ্ছন্নতারও কোনও বিকল্প নেই। এগুলো যদি মানুষ মানতে পারে তাহলে শুধু করোনাভাইরাসই নয় অন্যান্য ক্ষতিকর ও সংক্রামক রোগ থেকেও মুক্ত থাকতে পারবে। এক্ষেত্রে, পরিবেশ বান্ধব হওয়া ও রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে মানুষ আরও যত্নবান হবে বলে আশা করা যায়।

'মানুষ মানুষের জন্য' : পরিশেষে করোনাভাইরাস মহামারী এই চিরন্তন সত্যকেই আবার উদ্ভাসিত করেছে যে 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য'। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক, এমনকি সাধারণ মানুষও তাদের অপরিসীম ত্যাগ ও তিতিক্ষা অব্যাহত রেখেছেন এ করোনা-কালে। মানব সভ্যতার জন্য তারা অনুপ্রেরণার উৎস। চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য কর্মীরা করোনা-যুদ্ধের 'সামনের সৈনিক' হিসাবে তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন করোনা মহামারীর আক্রান্তদের জীবন বাঁচানোর জন্য। জার্মানির হেসে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী টমাস শেফার তার এলাকার করোনা মহামারীর সমাধান করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন, ইতালির বৃদ্ধ যাজক ডন গিউসেপ্পে বেবারডেল্লি নিজের জীবন বাঁচানোর ভেন্টিলেশন যন্ত্র খুলে দিয়েছেন এক তরুণের দিকে, করোনা-চিকিৎসার ভলান্টিয়ার হয়েছেন দুঃসাহসী নারী জনসন হ্যালার, টিকা আবিষ্কারে ব্যাপক অর্থায়ন করেছে বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। তারা আমাদের নমস্য। অসংখ্য নিবেদিত প্রাণ বিজ্ঞানী এবং গবেষক যারা দিন রাত পরিশ্রম করে চলছেন করোনার প্রতিষেধক বের করতে, যেসব রাজনীতিবিদেরা দেশের বিশাল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সংকটকে ভুলে মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে ব্রতী হয়েছেন তারাও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন চিরকাল। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, সর্বশক্তিমানের অনুগ্রহে, মানুষের সম্মলিত প্রচেষ্টায়, এবং বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে খুব শিগগিরই করোনাভাইরাস পরাজিত হবে। মানুষ আবার তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে। তবে, এ সংকটের সময়ে যেসব মানুষ প্রমাণ করেছেন যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতিই মানব সভ্যতাকে রক্ষা করার সবচেয়ে বড় শক্তি তারাই যদি ভবিষ্যত করোনামুক্ত সমাজের ভীত নির্মাণ করতে এগিয়ে আসতে পারেন তবে সেটিই হবে বৈশ্বিক করোনা-পাঠের সবচেয়ে উৎসাহব্যঞ্জক দিক।