০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রীকে স্বামীর কথা মানতে হবে, মনে করেন এক-তৃতীয়াংশ জেনজি পুরুষ

“সোশাল মিডিয়া তরুণ পুরুষের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।”

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Mar 2026, 01:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:06 PM

প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জেনজি পুরুষ বিশ্বাস করেন, একজন স্ত্রীর উচিত তার স্বামীর কথা মেনে চলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো স্বামীরই নেওয়া উচিত।

নতুন এক গবেষণার বরাতে এ তথ্য তুলে ধরেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট। ২৯টি দেশে ২৩ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় পুরুষের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নিয়ে বড় পার্থক্য দেখা গেছে।

বিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেবি বুমার পজন্মের পুরুষের (১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে জন্ম) তুলনায় দ্বিগুণের বেশি জেনজি পুরুষ (যাদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে) প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। 

বেবি বুমার পুরুষদের ১৩ শতাংশ বিশ্বাস করতেন, স্ত্রীর উচিত তার স্বামীর কথা মেনে চলা। আর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো স্বামীরই নেওয়া উচিত–এমন ধারণায় বিশ্বাস করতেন ১৭ শতাংশ। 

১৮ শতাংশ জেনজি নারী মনে করেন, স্ত্রীর উচিত সবসময় স্বামীর কথা মেনে চলা। আর বেবি বুমার নারীর মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ ওই মত পোষণ করতেন। 

লন্ডনের কিংস বিজনেস স্কুলের গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর উইমেনস লিডারশিপের চেয়ার জুলিয়া গিলার্ড বলেন, “লিঙ্গসমতার বিষয়ে তরুণ পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি আগের চাইতে ইতিবাচক নয়, এটা উদ্বেগের। অনেক জেনজি পুরুষ কেবল নারীদের ওপর সংকীর্ণ প্রত্যাশা চাপিয়ে দিচ্ছেন না, তারা নিজেদেরও কঠোর লিঙ্গধারণার মধ্যে আটকে ফেলছেন।”

তিনি বলেন, “লিঙ্গসমতার যাত্রায় সবাই যেন যুক্ত হয়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এটা কেন পুরো সমাজের জন্য দরকার, সেই বোঝাপড়াও থাকতে হবে।”

এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে ইপসস এবং কিংস কলেজ লন্ডনের কিংস বিজনেস স্কুলের গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর উইমেনস লিডারশিপ যৌথভাবে এই জরিপটি পরিচালনা করে। 

জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ জেনজি পুরুষ মনে করেন, একজন নারীর নিজেকে খুব বেশি স্বাধীন বা স্বনির্ভর মনে করা উচিত নয়। জেনজি নারীদের মধ্যে এই মত পোষণ করেন ১৫ শতাংশ।

আবার ৪১ শতাংশ জেনজি পুরুষই মনে করেন, সফল ক্যারিয়ার আছে—এমন নারীরা পুরুষের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। এক্ষেত্রে বেবি বুমারদের মধ্যে নারী-পুরুষ মিলিয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন ২৭ শতাংশ।

জেনজি পুরুষরাই বেশি মনে করেন, সফল ক্যারিয়ার আছে—এমন নারীরা পুরুষের কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

জেনজি পুরুষরাই বেশি মনে করেন, সফল ক্যারিয়ার আছে—এমন নারীরা পুরুষের কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

তবে সাধারণভাবে মানুষ তুলনামূলক সমতাভিত্তিক মত প্রকাশ করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ছয়জনের মধ্যে মাত্র একজন বলেছেন, শিশু লালন-পালনের বেশিরভাগ দায়িত্ব নারীদের নেওয়া উচিত (১৭%)। অথবা গৃহস্থালির কাজের বেশিরভাগ নারীদের করা উচিত (১৬%)। আর এক-চতুর্থাংশেরও কম (২৪%) মনে করেন, পরিবারের আয়ের দায়িত্ব প্রধানত পুরুষদের হওয়া উচিত।

যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তিগতভাবে গৃহস্থালির দায়িত্ব নিয়ে প্রথাগত ধারণা কম পোষণ করলেও তারা মনে করেন, সমাজে এখনো এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

যেমন ১৪ শতাংশ মনে করেন, শিশু লালন-পালনের প্রধান দায়িত্ব নারীদের হওয়া উচিত; কিন্তু ৪৩ শতাংশ বলেছেন, সমাজ নারীর কাছ থেকে এমনটাই আশা করে। আবার ১৫ শতাংশ মনে করেন, অর্থ উপার্জনের প্রধান দায়িত্ব পুরুষের; কিন্তু ৩৮ শতাংশ মনে করেন, সমাজ পুরুষের কাছ থেকে সেটাই আশা করে।

কিংস কলেজ লন্ডনের আইনের ছাত্র ১৯ বছর বয়সী কেন ব্র্যাডি বলেন, এই ফল দেখে তিনি অবাক হননি; কারণ তরুণ পুরুষরা এমন অনলাইন পরিবেশে বড় হচ্ছে যেখানে পুরুষত্ব নিয়ে নিয়মিত বিতর্ক হয়।

তিনি বলেন, “অনলাইন জগৎ, বিশেষ করে যেগুলোকে ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ বলা হয়, সেগুলো এমন এক ধরনের ইকো চেম্বার (ভিন্নমত কম) তৈরি করতে পারে, যেখানে লিঙ্গভূমিকা নিয়ে খুব প্রথাগত ধারণাগুলো বারবার বলা হয় এবং তা আরও শক্তিশালী হয়। আপনি যদি বারবার এমন ধারণার মুখোমুখি হন, তা সম্পর্ক বা পুরুষত্ব সম্পর্কে আপনার ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।”

কেন ব্র্যাডি বলেন, “অনলাইন আলোচনা আর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক সময় একেবারে ভিন্ন মনে হতে পারে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অনলাইনে যে মতগুলো সবচেয়ে বেশি ছড়ায়, সেগুলোর বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত। এর ফলে সেগুলো বাস্তব জীবনে যতটা না, তার চেয়ে বেশি সাধারণ ঘটনা মনে হতে পারে।”

কিংস বিজনেস স্কুলের গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর উইমেনস লিডারশিপের পরিচালক অধ্যাপক হিজুং চুংও মনে করেন, সোশাল মিডিয়া তরুণ পুরুষের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, “সোশাল মিডিয়া ও রাজনীতির অনেক পুরুষ ইনফ্লুয়েন্সার, এমনকি যারা সরাসরি ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ এর অংশ নন, তারাও পুরুষ হওয়ার অর্থ কী–সে বিষয়ে প্রচলিত লিঙ্গধারণাকে গুরুত্ব দেন।”

হিজুং চুং বলেন, “তরুণ পুরুষরা কেন বেশি রক্ষণশীল হয়ে উঠছে, তার একটি কারণ হতে পারে সোশাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব এবং লিঙ্গভূমিকা নিয়ে বাড়তে থাকা বিতর্ক। তারা হয়ত মনে করছে, সমাজের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলিয়ে চলতে হবে।”

তিনি বলেন, “লিঙ্গসমতার লড়াই মানে কেবল কয়েকজন নারীকে পুরুষের চেয়ে উঁচু অবস্থানে বসানো নয়। এর মানে হল নারী ও পুরুষের একসঙ্গে সমাজ, ব্যবসা ও সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানো—যাতে সবার জন্য আরও সুযোগ ও সুরক্ষা তৈরি হয়। 

“আমরা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলো সবার জন্যই সমান। একসঙ্গে কাজ করলে তার সুফল সবাই পেতে পারে।”