আত্মজীবনীর ইতিকথা: জুলিয়াস সিজার থেকে রাসসুন্দরী দেবী
কর্নেল তার বাড়ির আলমারিতে ব্যাট খুঁজতে গিয়ে একগাদা পুরনো বইয়ের স্তূপ দেখতে পান। বিরক্ত হয়ে তিনি বইগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
মানুষের জীবন এক রহস্যময় ক্যানভাস। আর সেই ক্যানভাসে নিজের হাতে নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরার যে শিল্প, তাকেই আমরা বলি আত্মজীবনী বা জীবনালেখ্য। চিঠি, ব্যক্তিগত ডায়েরি, স্বীকারোক্তি থেকে শুরু করে স্মৃতিকথা বা পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী—সবকিছুই এই জীবনলেখ্যের বিস্তৃত পরিসরের অন্তর্ভুক্ত।
সপ্তদশ শতাব্দী থেকেই মানুষ নিজের জীবন নিয়ে লেখালেখি শুরু করলেও, সত্তরের দশক থেকে এটি সাহিত্যের একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে সমালোচকদের স্বীকৃতি পায়। ঔপন্যাসিক ভার্জিনিয়া উলফ আত্মজীবনীর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছিলেন, “একজন মানুষের জীবনের সমস্ত অদৃশ্য উপস্থিতি বা না-বলা কথাগুলোকে লিপিবদ্ধ করাই হলো আত্মজীবনীর মূল কাজ। এর ফলে মানুষের জীবন নিছক হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। আত্মজীবনী মানে কেবল কতগুলো ঘটনার কালানুক্রমিক বিবরণ নয়; এর একটি মনস্তাত্ত্বিক, নান্দনিক এবং নৈতিক দিকও রয়েছে।”
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৫০ অব্দে লিখিত ভাষার উদ্ভব হলেও, ব্যক্তিগত বয়ান বা নিজের কথা নিজের মতো করে বলার চল শুরু হতে বেশ সময় লেগেছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৫৮ অব্দে জুলিয়াস সিজারের ধ্রুপদী ল্যাটিন ভাষায় লেখা ‘কমেন্টারিজ অন দ্য গ্যালিক ওয়ার্স’ এবং ‘কমেন্টারিজ অন দ্য সিভিল ওয়ার’-এর হাত ধরে প্রথম ব্যক্তিগত বয়ানের সূচনা ঘটে। তবে সিজার গল ও ব্রিটেনে তার সামরিক অভিযান এবং রোমান গৃহযুদ্ধের বর্ণনা দিতে গিয়ে উত্তম পুরুষের (ফার্স্ট পারসন) বদলে নাম পুরুষের (থার্ড পারসন) দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করেছিলেন, যা আজকের দিনের আত্মজীবনীর তুলনায় বেশ প্রাথমিক রূপ ছিল বলা যায়।
এর কাছাকাছি সময়ে, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের শেষের দিকে চীনা ইতিহাসবিদ সিমা কিয়েন বিভিন্ন নিন্দিত রাষ্ট্রনায়ক, হঠকারী সেনাপতি এবং গুপ্তঘাতকদের নিয়ে ছোট ছোট চরিত্র-চিত্রণ প্রকাশ করেন। আরও দুই শতাব্দী পর রোমান সাম্রাজ্যে সাহিত্যিক রূপ হিসেবে জীবনীর আত্মপ্রকাশ ঘটে। গ্রিক দার্শনিক প্লুটার্কের ‘প্যারালাল লাইভস’ এবং রোমান গ্রন্থাগারিক সুয়েটোনিয়াসের ‘লাইভস অফ দ্য সিজারস’ এ ক্ষেত্রে পথিকৃৎ। মধ্যযুগীয় ইসলামি সাহিত্যেও বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও ঐতিহাসিক চরিত্রদের নিয়ে ছোট ছোট জীবনী লেখা শুরু হয়, যা মূলত পেশাভিত্তিকভাবে (যেমন- পণ্ডিত, সাধু, শাসক) সংকলিত হতো।
ইতিহাসের প্রথম প্রকৃত আত্মজীবনী হিসেবে যে বইটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, সেটি হলো পঞ্চম শতাব্দীর ধর্মতাত্ত্বিক, দার্শনিক ও বিশপ সেন্ট অগাস্টিনের লেখা ‘কনফেশনস’। ল্যাটিন ভাষায় লেখা ১৩ খণ্ডের এই বইটিতে অগাস্টিন তার উদ্দাম ও ভোগবাদী তারুণ্য থেকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার দীর্ঘ মানসিক ও আধ্যাত্মিক যাত্রার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন।
তবে ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম আত্মজীবনীর গল্পটি আরও বেশি চমকপ্রদ। ১৪৩৮ সালে রচিত এবং ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে প্রকাশিত ‘দ্য বুক অফ মার্জারি কেম্প’ হলো ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম আত্মজীবনী। মার্জারি কেম্প ছিলেন একজন নিরক্ষর খ্রিস্টান মরমী সাধিকা। ১৪ সন্তানের জননী মার্জারি একসময় তার স্বামীর সঙ্গে ব্রহ্মচর্য পালনের ব্রত নেন এবং জেরুজালেম, সান্তিয়াগো দে কম্পোসটেলা, ইতালি ও জার্মানিতে তীর্থযাত্রায় বেরিয়ে পড়েন। তিনি তার জীবনের গল্পগুলো জন্মস্থান লিনের একজন যাজকের কাছে মুখে মুখে বলতেন, আর যাজক তা লিখে রাখতেন।
মার্জারি কেম্পের এই পাণ্ডুলিপিটি প্রায় ৪০০ বছর ধরে নিখোঁজ ছিল। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের চেস্টারফিল্ডের কাছে একটি কান্ট্রি-হাউসে পিংপং বা টেবিল টেনিস খেলার সময় অদ্ভুত এক ঘটনার মধ্য দিয়ে এটি আবিষ্কৃত হয়। কর্নেল ডব্লিউ বাটলার বোডন তার বাড়ির আলমারিতে পিংপং ব্যাট খুঁজতে গিয়ে একগাদা পুরনো বইয়ের স্তূপ দেখতে পান। বিরক্ত হয়ে তিনি বইগুলো পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে, তার এক বন্ধু বইগুলো কোনো বিশেষজ্ঞকে দেখানোর পরামর্শ দেন।
এভাবেই ইতিহাসবিদ হোপ এমিলি অ্যালেন স্তূপের ভেতর থেকে ‘দ্য বুক অফ মার্জারি কেম্প’-এর একমাত্র পাণ্ডুলিপিটি আবিষ্কার করেন। বইটিতে মার্জারি নিজেকে ‘এই প্রাণী’ (দিস ক্রিয়েচার) হিসেবে তৃতীয় পুরুষে সম্বোধন করেছেন এবং নিজের আধ্যাত্মিক উন্মাদনা, কান্না ও ঈশ্বরের সঙ্গে কথোপকথনের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনালেখ্য বা আত্মজীবনী কেবল ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতার গণ্ডিতে আটকে থাকেনি। দ্বিতীয় শতাব্দীতে সাধু-সন্তদের জীবনী বা ‘হ্যাজিওগ্রাফি’ লেখার যে চল ছিল, তা ধীরে ধীরে রাজা, স্বৈরশাসক ও নাইটদের বীরত্বগাথায় রূপান্তরিত হতে থাকে। স্যার থমাস ম্যালোরির ‘লে মর্তে ডি আর্থার’ এবং স্যার থমাস মোরের ‘হিস্ট্রি অফ রিচার্ড থ্রি’ আত্মজীবনী ও জীবনী সাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর রোমান্টিক যুগে সুইস দার্শনিক ও লেখক জঁ-জাক রুশো সেন্ট অগাস্টিনের বইয়ের শিরোনাম ধার করে নিজের আত্মজীবনীর নামও রাখেন ‘কনফেশনস’। রুশোর এই বইটি ছিল জাগতিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা প্রথম দিককার অন্যতম সফল আত্মজীবনী, যা পরবর্তীতে গ্যেটে, ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং ক্যাসানোভার মতো লেখকদের অনুপ্রাণিত করেছিল। একই শতকে স্কটিশ ডায়েরিস্ট জেমস বসওয়েল রচনা করেন ‘দ্য লাইফ অফ স্যামুয়েল জনসন’, যা ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জীবনী হিসেবে আজও সমাদৃত।
বিশ শতকের শুরুতে মনোবিজ্ঞানের বিকাশ আত্মজীবনী লেখায় এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসে। লেখকরা প্রথাগত বীরদের বন্দনার বদলে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও ব্যক্তিত্বের গভীরে আলো ফেলতে শুরু করেন। লিটন স্ট্র্যাচি তার ‘এমিনেন্ট ভিক্টোরিয়ানস’ বইয়ে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল বা জেনারেল গর্ডনের মতো পূজনীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনের ত্রুটি ও বাস্তব দিকগুলো নির্দয়ভাবে তুলে ধরে জীবনী সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। এরপর নারীবাদী আন্দোলনের ঢেউ আত্মজীবনীকে আরও সমৃদ্ধ করে। ন্যান্সি মিলফোর্ডের লেখা ‘জেল্ডা’ প্রমাণ করে দেয় যে ইতিহাস কীভাবে নারীদের গল্পকে পুরুষদের ছায়ায় ঢেকে রেখেছিল।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ‘যুদ্ধ স্মৃতিকথা’ বা ওয়ার মেমোয়ার নামক নতুন এক ধারার জন্ম দেয়। এই ধারায় সেনাপতিদের বদলে সাধারণ ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর প্রধান হয়ে ওঠে। এলি উইসেলের ‘নাইট’ বইটিতে তিনটি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে তার টিকে থাকার অমানবিক লড়াইয়ের কথা ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, ‘দ্য ডায়েরি অফ অ্যান ফ্র্যাংক’ এক কিশোরীর বয়ানে হলোকাস্টের যে মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেছে, তা আজ বিশ্বের ৭০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বইয়ের মর্যাদা পেয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, আত্মজীবনী আসলে কী? ‘অটোবায়োগ্রাফি’ শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দগুচ্ছ থেকে—‘অটো’ (নিজ), ‘বায়োস’ (জীবন) এবং ‘গ্রাফেইন’ (লেখা)। অর্থাৎ, নিজের জীবন নিজে লেখা। ইংরেজিতে আঠারো শতকের শেষের দিকে উইলিয়াম টেলর শব্দটি প্রথম ব্যবহার করলেও, ১৮০৯ সালে কবি রবার্ট সাউদি এটিকে সাহিত্যিক পরিভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আত্মজীবনীর বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। প্রথমত, প্রথাগত আত্মজীবনী, যেখানে লেখক তার জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত ঘটনাগুলো সাজিয়ে লেখেন। প্যাটি লুপোন বা শন ও’ক্যাসির বইগুলো এর চমৎকার উদাহরণ। দ্বিতীয়ত, স্মৃতিকথা বা মেমোয়ার, যা পুরো জীবনের বদলে জীবনের কোনো নির্দিষ্ট সময়, ঘটনা বা অনুভূতির ওপর বেশি জোর দেয়। হেনরি ডেভিড থরোর ‘ওয়াল্ডেন’ কিংবা চেরিল স্ট্রেয়েডের ‘ওয়াইল্ড’ হলো স্মৃতিকথা।
তৃতীয়ত, অটোফিকশন বা কল্প-আত্মজীবনী, যেখানে লেখক নিজের জীবনের সত্য ঘটনাগুলোর সঙ্গে কল্পনার মিশেল ঘটান। জেমস ফ্রের ‘অ্যা মিলিয়ন লিটল পিসেস’ বইটি স্মৃতিকথা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও পরে জানা যায় এর অনেক ঘটনাই লেখকের কল্পনাপ্রসূত, যা সাহিত্য জগতে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। চতুর্থ ধরনটি হলো আধ্যাত্মিক আত্মজীবনী, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ পরমহংস যোগানন্দের ‘অটোবায়োগ্রাফি অফ অ্যা যোগী’।
সাধারণ মানুষের কাছে আত্মজীবনীর আবেদন সবসময়ই বেশি, কারণ এখানে কোনো ঘটনার বর্ণনা সরাসরি সেই মানুষের মুখ থেকে শোনা যায় যিনি নিজে সেই ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছেন। মায়া অ্যাঞ্জেলুর ‘আই নো হোয়াই দ্য কেজড বার্ড সিংস’ বইটিতে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ণবাদ এবং শৈশবের নিপীড়ন থেকে তার উঠে আসার যে গল্প, তা কোনো ইতিহাসবিদের লেখায় পাওয়া হয়তো সম্ভব নয়।
একইভাবে, অন্ধ ও বধির হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে কীভাবে একজন মানুষ সফল হতে পারেন, তার প্রমাণ হেলেন কেলারের ‘দ্য স্টোরি অফ মাই লাইফ’। আবার ভিন চং-এর ‘হয়্যার দ্য উইন্ড লিডস’ বইটিতে দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে পালিয়ে আসা এক রিফিউজি পরিবারের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল পর্যন্ত পৌঁছানোর যে রোমহর্ষক সংগ্রাম, তা আধুনিক আত্মজীবনী সাহিত্যের এক রত্ন।
বিশ্বসাহিত্যের এই সুবিশাল প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। বরং বাংলা ভাষায় আত্মজীবনীর সূচনা হয়েছিল নীরব এক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয় রাসসুন্দরী দেবীর লেখা ‘আমার জীবন’। এটি কেবল বাংলা ভাষার প্রথম আত্মজীবনীই নয়, বরং পুরো ভারতবর্ষের ইতিহাসে কোনো নারীর লেখা প্রথম আত্মজীবনী।
তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের পড়াশোনা করা ছিল এক প্রকার নিষিদ্ধ। সেই যুগে রাসসুন্দরী দেবী রান্নাঘরের ধোঁয়াটে পরিবেশে লুকিয়ে লুকিয়ে, কখনো বইয়ের পাতা ছিঁড়ে আঁচলে লুকিয়ে রেখে, নিজের চেষ্টায় অক্ষরজ্ঞান লাভ করেছিলেন। তার লেখা ‘আমার জীবন’ কেবল একজন নারীর আত্মজৈবনিক আখ্যান নয়; এটি তৎকালীন বাঙালি সমাজের সামাজিক ইতিহাস, নারীদের আত্মত্যাগ ও আত্মমুক্তির দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
একুশ শতকে এসে জীবনলেখ্য বা আত্মজীবনী লেখার প্রবণতা বেড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মানুষ এখন বিশ্বাস করে, নিজের শেকড়, পূর্বপুরুষের গল্প এবং নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো লিখে রেখে যাওয়া ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্বের অংশ। জুলিয়াস সিজারের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে মার্জারি কেম্পের আধ্যাত্মিক কান্না, অ্যান ফ্র্যাংকের লুকিয়ে থাকা চিলেকোঠা কিংবা রাসসুন্দরী দেবীর রান্নাঘরের অক্ষর পরিচয়—আত্মজীবনী যুগে যুগে প্রমাণ করেছে, প্রতিটি মানুষের জীবনই আসলে আস্ত একটি ইতিহাস। আর সেই ইতিহাস নিজের হাতে লিখে যাওয়ার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছুই হতে পারে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
