০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

'মব সন্ত্রাস’ ও বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনে শিল্পীরা

“শিল্পীরা গান গাইবেন, নাটক করবেন, অন্যান্য সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই।"

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 04:47 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘মব সন্ত্রাসের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিল্পী ও নির্মাতারা।

‘আমরা শিল্পীবৃন্দ’ ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার এ কর্মসূচি পালন করেন তারা৷ সেসময় বাঁধনের উপর  হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মানববন্ধনে অভিনেতা ইভান সাইর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, "আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলাম। বর্তমান সরকারও যদি গণবিরোধী কিছু করে, আমরা প্রতিবাদ করব। বাঁধনের প্রশংসা করে বলব, এ পরিস্থিতিতে সে এতটা শক্ত থেকে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে, যা আমাদের মনোবল শক্ত করছে। বাংলাদেশের শিল্পীরা গান গাইবেন, নাটক করবেন, অন্যান্য সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই।"

নির্মাতা রিয়াজুল রিজু বলেন, "আমরা শিল্পী, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের নই। দেশকে ভালোবেসে ২৪ এর জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম। কিন্তু গত দুই বছরে আমাদের ওপরই বেশি হামলা হয়েছে। শোরুম উদ্বোধন করতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট বন্ধ হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের। সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ মানে দেশের ওপর আক্রমণ, অস্তিত্বের ওপর আক্রমণ। বাঁধন সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। আমরা শিল্পীরাও তাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় আমরা সোচ্চার আছি, থাকব।"

সংগীতশিল্পী মুহিন খান বলেন, “কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে মব সন্ত্রাস হয়েছে, তা আমরা আর মেনে নেব না। দেশের কোনো অংশে এমন মব হলে আমরা বসে থাকব না।"

রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ চলচ্চিত্র নিয়ে ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অন্য কলাকুশলীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাঁধন। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে মেস্ত্রে এলাকায় বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। ফেইসবুকে তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের আওয়ামী লীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তার দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছোড়ে। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় বাঁধনের সঙ্গে তার ভাই, ভাবি ও তাদের চার বছর বয়সি সন্তান ছিলেন।

বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে।

ঘটনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলান। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন মিলান কনস্যুলেটের শ্রম কনসাল মেহরুবা ইসলাম।

বাঁধনের ওপর হামলা: পাশে আছে দূতাবাস, পুলিশের তদন্ত শুরু