মনীষার কেবলই মনে হচ্ছিল তিনি ‘মারা যাচ্ছেন’
টানা চার মাস ১৮টি কেমোথেরাপি নেন এই অভিনেত্রী।
একের পর এক সিনেমায় ভরাডুবি, বিবাহবিচ্ছেদ, নতুন কাজের প্রস্তাব না পাওয়া-১৪ বছর আগে এসব কারণে বিষন্নতায় তলিয়ে যাচ্ছিলেন বলিউডি অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা।
দুৎসহ সেই সময় আরও খারাপ দিকে মোড় নেয়, যখন তিনি জানতে পারেন তার ডিম্বাশয়ে (ওভারি) ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। এরপর শুরু হয় চিকিৎসার দীর্ঘ ধাপ। একটা সময়ে অভিনেত্রীর মনে হয়, ‘আশা নেই’, আর বোধহয় বাঁচবেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন নেপালি বংশোদ্ভূত মনীষা। নিউজ এইট্টিন জানিয়েছে, নেপালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনীষা জানতে পেরেছিলেন, তার ক্যানসার হয়েছে। আর সেই রাতটাই হয়ে উঠে জীবনের অন্যতম অন্ধকার রাত।
মনীষার কথায়, “সেই রাতটা ছিল আমার কাছে সবচেয়ে নিঃসঙ্গ এবং দীর্ঘ রাত। মনে হচ্ছিল, একটা অন্ধকার জায়গায় চলে গিয়েছি, আমি বোধহয় মারা যাব।”
গুরুতর অসুস্থতার সময়ে একজন রোগী কতটা একাকিত্ব অনুভব করতে পারেন, সেই অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
এরপর নেপাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মনীষা ভারতে আসেন। সেখানেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা বলেছিলেন ক্যানসার বেশ জটিলভাবেই জেঁকে ধরেছে তাকে। তাই আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য কেমোথেরাপি নিতে তিনি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে।
সেখানে অস্ত্রোপচার করে ডিম্বাশয় ফেলে দেওয়া হয় মনীষার। এরপর শুরু হয় কেমোথেরাপি। টানা চার মাস ১৮টি কেমোথেরাপি নিতে হয় মনীষাকে। এর প্রভাবে চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু ঝরে যায়।
এরপর তিনি ক্যান্সার থেকে মুক্ত হন। তবে দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয় মনীষাকে।
ক্যানসারকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ হিসাবে দেখেন মনীষা। তাই যা তার মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে না, এমন সব অপ্রয়োজনীয় বিষয় সরিয়ে দিয়েছেন জীবন থেকে। এখন পরিবারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার। ছোট এবং অর্থপূর্ণ বন্ধুমহলই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন।
মনীষা বলেন, আগে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি একেবারেই যত্নশীল ছিলেন না। দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার পরে স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকৃতি ও প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য, জীবন উপভোগের স্বাদ পেতে শুরু করেছেন। বেঁচে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ থাকাকেই এখন জীবনের মূল মন্ত্র হিসেবে দেখেন মনীষা।
মনীষার বলিউড যাত্রা শুরু নব্বই দশকের শুরুতে। ১৯৯১ সালে অভিষেক হওয়া মনীষা অল্প সময়ের মধ্যেই ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, ‘আকেলে হাম আকেলে তুম’, ‘বোম্বে’, ‘খামোশি’, ‘দিল সে’ এর মত জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন।
২০২৪ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হীরামান্ডি’ সিরিজ করে ফের আলোচনায় আসেন তিনি। তার অভিনীত ‘মল্লিকা জান’ চরিত্রটি নজর কাড়ে দর্শক ও সমালোচকদের।
