শিল্পকলায় ২ দিনের ‘নজরুল নৃত্য উৎসব’ শুরু
দুদিনের এ উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নৃত্যের ছন্দে ছড়িয়ে দিতে শুরু হয়েছে দুই দিনের 'নজরুল নৃত্য উৎসব ২০২৬'।
শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ উৎসব উদ্বোধন হয়।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা 'শঙ্কাকুশল লক্ষ কণ্ঠে' শিরোনামে নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর নাঈম খান ড্যান্স কোম্পানি পরিবেশন করে 'আমার কৈফিয়ত'।
এছাড়া ‘নৃত্যযতন-ময়মনসিংহ’, ‘স্পন্দন’, ‘ভাবনা’, ‘নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’, ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস’ ও ‘কায়াশ্রম’সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নৃত্যদল পরিবেশনায় অংশ নেয়।
এর আগে উদ্বোধনী আলোচনায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, "নজরুল অসহায়-নিপীড়িত মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়িয়েছেন। আমাদের সমগ্র সমাজকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছেন। শিল্পের নানা মাধ্যমে এভাবেই আমরা তাকে স্মরণ করতে চাই।"
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, "শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধারায় নজরুল অনেক বড় জায়গা দখল করে আছেন। আমাদের বাংলার মানুষের প্রেম-বিরহ নৃত্যের তালে ফুটে ওঠে। ছন্দ জীবনের প্রতিটি পর্বে রয়েছে।"
একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও গবেষক আমানুল হক অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "নজরুলের মানবতা ও দ্রোহের বিষয়গুলোকে আমরা নাচের মাধ্যমে তুলে ধরি। তার চিন্তা-চেতনাকে অন্তরে ধারণ করেই এ পরিবেশনা।"
শিল্পকলা একাডেমি বলেছে, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উৎসবের শেষ দিনের পরিবেশনা শুরু হবে। সেখানেও নজরুলের গান ও কবিতার বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবিকতার চেতনা নিয়ে বিভিন্ন দল মঞ্চে উঠবে। দুদিনের এ উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত।
