‘মার খাওয়ার ভয়ে’ নাম বদল করেন দিলীপ কুমার!
অভিনয়জীবন শুরুর সময় দিলীপ খানের সামনে তিনটি নামের প্রস্তাব আসে।
ইউসুফ খান থেকে হয়ে যাওয়া দিলীপ কুমারের বলিউড যাত্রা বহুমাত্রিক। জনপ্রিয়তায় আকাশ ছুঁয়েছিলেন। প্রায় ছয় দশকের ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন বহু জনপ্রিয় সিনেমা। স্বজন, কাছের মানুষ এবং স্ত্রী সায়রা বানু শেষ দিন পর্যন্ত তাকে ইউসুফ বলেই ডাকতেন। তবে কেন সিনেমায় তিনি দিলীপ নাম নিয়েছিলেন?
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন তিনি নিজেই।
১৯৭০ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ কুমার বলেছিলেন, “মার খাওয়ার ভয়েই আমি দিলীপ কুমার নামটি নিয়েছিলাম।”
সিনেমা জগতে পা দেওয়ার পর অভিনয়শিল্পীদের নতুন নাম নেওয়ার ঘটনা অভিনব কোনো ব্যাপার নয়। তবুও দিলীপ কুমারের নাম পরিবর্তনের কারণ সামনে আসার পর তা বিস্ময় তৈরি করেছিল তার গুণগ্রাহীদের মধ্যে।
বিবিসিকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকার সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি। তার পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দিলীপ কুমারের নামবদলের গল্প।
তারা বাবা লালা গুলাম সারওয়ার আলী খান ছিলেন চলচ্চিত্রের ঘোর বিরোধী। সিনেমায় অভিয়কে তিনি তিনি সম্মানজনক পেশা মনে করতেন না। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পৃথ্বীরাজ কাপুরের ছেলে অভিনয় করায়ও তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং প্রকাশও করতেন।
সাক্ষাৎকারে দিলীপ কুমার বলেন, “বাবা প্রায়ই বন্ধু লালা বশেশর নাথকে বলতেন, তোমার সুস্থ সবল ছেলেটা কী কাজ করছে দেখ।”
তাই নিজে যখন অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বাবার প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভীত ছিলেন।
দিলীপ কুমার বলেন, “আমি জানতাম, বাবা জানতে পারলে খুব রেগে যাবেন। তিনি ছিলেন খুবই কঠোর স্বভাবের একজন পাঠান। তাই আমার মনে ভয় কাজ করেছিল। সিনেমায় কাজ করার জন্য নাম বদলের প্রস্তাব আসার পর রাজি হয়ে যাই।”
অভিনয়জীবন শুরুর সময় দিলীপের সামনে তিনটি নামের প্রস্তাব আসে। সেগুলো হল, ইউসুফ খান, দিলীপ কুমার ও বাসুদেব।
দিলীপ বলেন, “আমি শুধু বলেছিলাম, ইউসুফ খান নামটা যেন না রাখা হয়। অন্য যে কোনো নাম চলবে।”
কয়েক মাস পর একটি সংবাদপত্রে নিজের প্রথম সিনেমার বিজ্ঞাপন দেখে জানতে পারেন, তার নতুন নামকরণ হয়েছে। সেই নাম হল ‘দিলীপ কুমার’।
১৯৪৪ সালে পরিচালক অমিয় চক্রবর্তীর ‘জোয়ার ভাটা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় দিলীপ কুমারের। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছিল তৎকালীন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান বম্বে টকিজ। প্রথমবার পর্দায় ভেসে ওঠে ‘দিলীপ কুমার’ নামটি।
২০১৪ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘দ্য সাবট্যান্স অ্যান্ড দ্য শ্যাডো’-তেও দিলীপ কুমার তার নাম নিয়ে লিখে গেছেন।
ওই জীবনীতে বলা হয়েছে, দিলীপ কুমারের নতুন নামের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অগ্রদূত অভিনেত্রী ও প্রযোজক দেবিকা রানী।
দেবিকা রানী দিলীপকে বলেছিলেন, “ইউসুফ, শিগগিরই তোমার অভিনয়জীবন শুরু হবে। আমার মনে হয়, তোমার একটি পর্দার নাম থাকা উচিত।”
দেবিকা রানী বলেছিলেন, এমন একটি নাম বেছে নিতে হবে, যার সঙ্গে দর্শক সহজেই সংযোগ তৈরি করতে পারবেন এবং অভিনেতার সঙ্গেও মানানসই হবে।
দিলীপ কুমারেরও নামটি ভালো লেগেছিল বলে বইয়ে লিখেছেন তিনি। পরে সেই নামই হয়ে ওঠে ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি পরিচয়।
