সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা ও হুমকি রোধে আইনি নোটিস
নোটিসে একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
কনসার্ট, নাটক, সিনেমা, লোকসংগীত ও নৌকাবাইচের মত শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে বেআইনি বাধা, হুমকি ও হামলা প্রতিরোধে তিন সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) আইনি নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী।
নোটিসে একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি এ নোটিস পাঠান।
স্বরাষ্ট্র সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের পাশাপাশি আইজিপিকে নোটিস পাঠানোর দাবি করেছেন তিনি।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নোটিসে তুলে ধরা দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে নোটিসদাতাকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
তা না হলে এ বিষয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করার কথা বলেছেন আইনজীবী অভি।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত অগাস্টে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর কারণে কিশোরগঞ্জে একটি কনসার্ট হতে দেওয়া হয়নি। জুলাইয়ের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শনীতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি উঠেছে এবং অনুপম রায়ের কনসার্টও হতে দেওয়া হয়নি।
“বিভিন্ন ধরনের তৌহিদী জনতা বা উগ্র জনগোষ্ঠীর এই বাধার কারণে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বেআইনি বাধা, হুমকি, হামলা ও ভাঙচুর প্রতিরোধ করে সরকার যাতে সাংস্কৃতিক কর্মী, আয়োজক, শিল্পী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, মূলত সেজন্যই নোটিসটি পাঠানো হয়েছে।”
নোটিসে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পছন্দ না করার অধিকার থাকলেও সেই আপত্তি কোনো নাগরিকের আইনসম্মত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর বেসরকারি ‘ভিটো’ সৃষ্টি করতে পারে না।
হুমকি থাকলে অনুষ্ঠান বাতিলের পরিবর্তে প্রথমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও নোটিসে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা, যৌক্তিকতা ও বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য সাংস্কৃতিক অধিকার, নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় একটি সমন্বিত এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) বা নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
