২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

'তুমি প্রিয় মানুষ ছিলে’ শামস সুমন স্মরণে আফজাল হোসেন

আফজাল হোসেন লিখেছেন, ‘মৃত্যু আমাদের প্রতিবেশী, একই পাড়ায় থাকি আমরা, হয়ত সে বাস করে পাশের ঠিকানায়’।

'তুমি প্রিয় মানুষ ছিলে’ শামস সুমন স্মরণে আফজাল হোসেন
অভিনেতা শামস সুমন ও আফজাল হোসেন। ছবি: ফেইসবুক থেকে নেওয়া।

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Mar 2026, 03:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:11 PM

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে 'মৃত্যু' শিরোনামের একটি কবিতা সামনে এনেছেন অভিনেতা আফজাল হোসেন।  

শোক প্রকাশের পাশাপাশি জীবনের অনিবার্য পরিণতি ও মৃত্যুর দার্শনিক ব্যাখ্যা তুলে কবিতায় ধরেছেন এই অভিনেতা। 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন শামস সুমন। ফেইসবুকে এক পোস্টে একগুচ্ছ ফুল হাতে রং তুলিতে অভিনেতার ছবি এঁকেছেন আফজাল। সেখানে কবিতার শুরুতেই আফজাল লিখেছেন, "তুমি প্রিয় মানুষ ছিলে শামস সুমন”  

এরপর কবিতার মূল অংশে মৃত্যুকে তিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন ‘প্রতিবেশী’ রূপে। 

আফজাল লিখেছেন, "মৃত্যু আমাদের প্রতিবেশী, একই পাড়ায় থাকি আমরা, হয়ত সে বাস করে পাশের ঠিকানায়, কিংবা হয়ত এগারো বারো বাসা দূরে, ঠিক কত দূরে বা কত কাছে, কোনদিন কারো মনে হয়না, চিনে রাখি।” 

মৃত্যু নীরবে মানুষের আশপাশে ঘোরাফেরা করে, সবার পরিচয় জানে, কিন্তু মানুষ তাকে দেখতে পায় না এই বাস্তবতা উঠে এসেছে অভিনেতার কবিতায়। 

তিনি লিখেছেন, “সে প্রত্যেক বাসা ও মানুষদের চেনে, হয়ত প্রায় রোজই আমাদের ডান বাম ঘেঁষে, পাড়ার প্রত্যেক পথে যাওয়া আসা করে, কারো মনে প্রশ্ন জাগে না কেমন দেখতে সে।” 

মৃত্যু যার কাছে আসে শুধু সেই দেখতে পায় এমন কথা তুলে ধরে আফজাল লিখেছেন, “যে বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়ে, দরজা খুলে সে মানুষটাই কেবল দেখতে পায়, দেখে, হুবহু তার মত একজন মুখোমুখি, সে বাক্যহীন, সে অভিব্যক্তিহীন।” 

শেষাংশে মৃত্যুর অনিবার্য আহ্বানের কথাও তুলে ধরেন আফজাল হোসেন। তার ভাষায়, “শোনে অমোঘ এক আহ্বান, যেতে হবে

বিনাবাক্যেই বেরিয়ে পড়ে মানুষ, হয়তোবাড়ানো হাত ধরে, কিংবা একজনের ছায়া হয়ে অন্যজন, পৃথিবীতে প্রশ্ন পড়ে থাকে, কেনো যেতে হবে।”

৬১ বছর বয়সী সুমন দীর্ঘদিন ধরেই লিভার সমস্যায় ভুগছিলেন। 

অভিনেতার মৃত্যুর খবর দিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু গ্লিটজকে বলেন, “বাসাতেই ছিলেন, আজকে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যান। ল্যাবএইডে নিয়ে আসা হয়। নিয়ে আসার পরই মারা গেছেন।”

তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। 

সুমনের অভিনয়ের যাত্রা মঞ্চ থেকে। এরপর এক সময়ে তিনি ছোট ও বড় পর্দায় সমানতালে কাজ করেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাকে পর্দায় দেখা যায়নি।

শামস সুমন রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক ছিলেন। 

'মন জানেনা মনের ঠিকানা' (২০১৬), 'কক্সবাজারে কাকাতুয়া (২০১৬)', 'চোখের দেখা (২০১৬)', 'প্রিয়া তুমি সুখী হও (২০১৪)', 'আয়না কাহিনী (২০১৩)', 'বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬)', 'জয়যাত্রা (২০০৪)', 'নমুনা (২০০৮)', 'হ্যালো অমিত (২০১২)', 'জয়যাত্রা (২০০৪)' সহ আরও আরও কিছু সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন।

২০০৮ সালে 'স্বপ্নপূরণ' চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শামস সুমন।

আরও পড়ুন:

হঠাৎই চলে গেলেন অভিনেতা শামস সুমন