২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যাংকগুলো ‘সিরিয়াস ক্যাপিটাল ডেফিসিটে’ ভুগতেছে: অর্থমন্ত্রী

অনেক সফল কোম্পানিও মারাত্মক পুঁজির ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 May 2026, 04:13 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

বিগত সময়ে অর্থ পাচার ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্ষদের যোগসাজশে ঋণ নিয়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় দেশের অনেক ব্যাংক ‘গুরুতর পুঁজির ঘাটতিতে’ পড়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বেসরকারি খাতে গুরুতর পুঁজির ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সফল কোম্পানিও মারাত্মক পুঁজির ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ফাইনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (ফার) সামিট ২০২৬’ এ বক্তব্য রাখছিলেন অর্থমন্ত্রী।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক খাতসহ বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থ পাচারের অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব অভিযোগে বড় শিল্পগোষ্ঠী, সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘটনাবহুল দেড় বছর পেরিয়ে গেল ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। আসছে জুনে আগামী অর্থবছরের বাজেট দেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “বিশাল একটা ‘ক্যাপিটাল ডেফিসিট’ হয়ে গেছে, আপনারা সবাই জানেন। আপনারা যারা অডিটর, অ্যাকাউন্ট্যান্ট আমার চেয়ে আপনারা অনেক বেশি জানেন। 

“বেসরকারি খাতে মারাত্মক পুঁজির ঘাটতি রয়েছে। আপনারা আমার সঙ্গে একমত হবেন আশা করি। গুরুতর পুঁজির ঘাটতি, অনেকে বলছে না হয়তো, আমি জানি।”

তিন বলেন, “অনেক ‘সাকসেসফুল কোম্পানি ইজ গোয়িং থ্রু সিরিয়াস ক্যাপিটাল ডেফিসিট’। ব্যাংকগুলো ‘সিরিয়াস ক্যাপিটাল ডেফিসিটে’ ভুগতেছে। অনেকগুলো ব্যাংক।”

পুঁজির ঘাটতির কারণ বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, “এগুলোর কারণ হল, ‘মানি লন্ডারিং’ থেকে শুরু করে, ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশনের’ মাধ্যমে টাকা বের করা এবং বোর্ডের ‘মেম্বার ইন কলুশন উইথ দ্য ম্যানেজমেন্ট’, তারাই টাকা নিয়ে গেছে।

“‘ইন দ্য নেইম অব ব্যাংক ওনারশিপ’ তারা টাকা নিয়ে গেছে।”

দেশে করপোরেট সুশাসন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) বাংলাদেশ, দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করে।

অর্থ পাচারসহ আর্থিক নানা অসঙ্গতি থাকলেও তা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে না আসায় এফআরসিকে এক হাত নেন অর্থমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবণতা থাকায় ‘ভালো’ প্রতিষ্ঠানও পুঁজিবাজারে আসতে চায় না।

আমির খসরু বলেন, “এফআরসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অগাস্ট ২০১৫। এখনতো ২০২৬। আমরা ১১ বছর পার হয়ে আসছি। আমি জানি না এফআরসির ভূমিকা বিগত দিনগুলোতে কি ছিল।”

প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকায় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংখ্যা দিনদিন কমে আসার তথ্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।

তিনি বলেন, এই সংগঠনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ছিল ৭ হাজার ২০০। এখন কমে সেটি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫৫০।

“এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার কারণ তাদের সঠিক হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক প্রতিবেদন ছিল না।”

অনেক সময় ফাঁপানো ও বানোয়াট প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানগুলো করে থাকে তুলে ধরে মাহমুদ হাসান বলেন, “এটা করলে আজ হোক, কাল হোক ‘প্রতিষ্ঠান ধ্বংস’ হবেই।”

যেসব রপ্তানিকারকদের হিসাবরক্ষণ স্বচ্ছ তাদের সঙ্গেই ক্রেতারা ব্যবসা করতে চান বলেও তিনি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসি চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া। সভাপতিত্ব করেন অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।