জ্বালানির অভাবে পুরো উৎপাদনে যেতে পারছে না শিল্পের বড় অংশ: বাণিজ্যমন্ত্রী
“এলডিসি সুবিধা থেকে বেরিয়ে গেলে রপ্তানি, ওষুধ শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে,” বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
জ্বালানির অভাবে দেশের শিল্পখাতের বড় একটা অংশ পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারছে না বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
বুধবার ঢাকার আইসিএমএবি ভবনে এক সংলাপে তিনি এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
‘বাংলাদেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণ: টেকসই রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা’ শিরোনামে ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ’ (আইসিএমএবি) এ সংলাপ আয়োজন করে।
এতে এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে, তবে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই উত্তরণকে টেকসই করা।"
মন্ত্রী বলেন, এলডিসি সুবিধা থেকে বেরিয়ে গেলে রপ্তানি, ওষুধ শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
"তাই প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করেই উত্তরণে এগোনো উচিত।"
সরকার জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে বলে দাবি করেন মুক্তাদির।
নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত ও সম্পূর্ণ অনলাইনে করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, "দেশের শিল্প খাতের বড় অংশ বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।"
পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইসিএমএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান খান বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে সফল হতে হলে সুশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতির ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
"বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা অসাধারণ; প্রয়োজন কেবল কার্যকর বাস্তবায়ন।"
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “শুধু রপ্তানির পরিমাণ নয়, ভ্যালু অ্যাডিশন ও রিটেনশন বৃদ্ধিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে পোশাক শিল্পে অন্তত ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলেও তিনি দাবি করেন।
এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা, শুল্ক সুবিধা কমানো এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের কৌশল নিয়ে কথা বলেন।
