২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাচারের অর্থ ফেরাতে ৪-৫ বছর লাগে, এটা বাস্তবতা: গভর্নর

“তারা আমাদের বিরুদ্ধে সালিশি মামলা করেছে; চোরের মায়ের বড় গলা,” এস আলম গ্রুপকে উদ্দেশ করে বলেন তিনি।

পাচারের অর্থ ফেরাতে ৪-৫ বছর লাগে, এটা বাস্তবতা: গভর্নর
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Dec 2025, 08:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:20 PM

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে ‘অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর’ সময় লাগে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর অগ্রগতি জানতে চাইলে বুধবার সচিবালয়ে গভর্নর এ মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে অর্থ আনতে অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর লাগে। এটা এমনি হয় না; এটা একটা বাস্তবতা।

“তবে আমরা সম্ভবতা সৌভাগ্যবান। লন্ডন থেকে যদি মামলা, সাইফুজ্জামানের (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ) মামলাটা যদি রিজলভ হয়ে যায়, ওটা তো তারা কন্টেস্ট করে নাই। প্রথম মামলায় তো তারা হেরেই গেছে। সেখানে আমাদের তো ইসলামী ব্যাংক এবং ইউসিবিএল ক্লেইম বসিয়েছে। ওই ক্লেইমের হয়তো কিছু টাকা আসতেও পারে।”

তবে সেটি কবে আসবে তাও ‘অজানা’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কিন্তু সেটা কবে আসবে, ফেব্রুয়ারির আগে আসবে বা এপ্রিল, জুন, জুলাই, অগাস্টে আসবে, আমরা তো সেটা জানি না।”

এর আগে দুদকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদ জব্দের কথা জানিয়েছিল যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বৈঠক হয়। 

বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে  গভর্নর বলেন, “এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।”

এস আলম গ্রুপের টাকা ফেরানোর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “তারা তো সালিশি মামলা করেছে আমাদের বিরুদ্ধে; চোরের মায়ের বড় গলা। তো সেটা আমরা কন্টেস্ট করব।

“অন দ্য গ্রাউন্ড, দ্যাট হি ইজ আ বাংলাদেশি সিটিজেন। আর বাংলাদেশের কোর্টে এটা প্রমাণিত। এবং আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। তো সেই হিসেবে আমরা কন্টেস্ট করব যে (মো. সাইফুল আলম (এস আলম) সিঙ্গাপুরিয়ান না, সে বাংলাদেশি। আমাদের ব্যাংকের ডিরেক্টর ছিল, চেয়ারম্যান ছিল। বাংলাদেশি না হলে কীভাবে চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর হয়? ইটস এ ফ্যাক্ট।”

২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাংকে সালিশি মামলা করেন আলোচিত এই ব্যবসায়ী।

তার ভাষ্য, অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে সেগুলো ফিরিয়ে আনার যেসব উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, তাতে তাদের পারিবারিক ব্যবসায় ‘কোটি কোটি ডলার’ ক্ষতি হয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সাইফুল আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা বিশ্ব ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে (আইসিএসআইডি) সালিসি আবেদনটি জমা দেন।

দেশের অর্থনীতির হালচাল জানতে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তিন মেয়াদে ২৪০ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ হাজার কোটি ডলার বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে।

এর মধ্যে এস আলম পরিবারের হাতেই ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের।

সালিশি মামলাটি হয়েছে ২০০৪ সালের বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির অধীনে।

২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিক ত্যাগ করেন এস আলম পরিবারের সদস্যরা। এরপর ২০২১ ও ২০২৩ সালের মধ্যে তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব পান।

সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে এস আলম পরিবার বলছে, বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের বেসরকারি বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা আইন অনুযায়ী তারা সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য।

'কোটি কোটি ডলার' ক্ষতি: সরকারের বিরুদ্ধে সালিশি মামলা এস আলমের