২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

জুলাইয়ে বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ের চেয়ে পরিশোধ আড়াই গুণ

বড় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও জাইকা ওই মাসে কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 10:38 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:11 PM

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন দাতাসংস্থা বাংলাদেশের অনুকুলে যে পরিমাণ ঋণ সহায়তার অর্থ ছাড় করেছে তার আড়াই গুণ পাওনা পরিশোধ করতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকাসহ বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশকে ১৮ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার ছাড় করেছে।

একইমাসে পুঞ্জীভূত পাওনা থেকে সুদ-আসল বাবদ দাতাদের পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

এ হিসাবেই শতাংশ হিসাবে পরিশোধ বেড়েছে ১৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

১ জুলাই থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে। এই আর্থিক বছরের দুই মাস (জুলাই-অগাস্ট) শেষ হতে চলেছে। 

রোববার প্রথম মাস জুলাইয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দাতাদের কাছ থেকে ২০ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার ঋণের অর্থ পেয়েছিল বাংলাদেশ। 

সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার কম ঋণ পাওয়া গেছে। শতাংশ হিসাবে কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গত বছরের জুলাইয়ে আগে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল বাবদ ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। 

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পরিশোধ বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ মাসে আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩৪ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ডলার; সুদ বাবদ গেছে ১১ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে বাংলাদেশ অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছে। এখন সেসব ঋণের সুদসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ফলে এখন ঋণদাতাদের কাছে পরিশোধের চাপও বেড়েছে। আগামীতে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে বিভিন্ন সময়ে দাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৮ কোটি ৬৯ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল।

সবচেয়ে বেশি দিয়েছে এডিবি

ইআরডির তথ্যে দেখা যায়, জুলাইয়ে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ১৮ কোটি ১ লাখ ৯০ হাজার ডলারের যে ঋণ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার দিয়েছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

ভারত দিয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অন্যরা দিয়েছে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

জুলাইয়ে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), চীন ও রাশিয়া কোনো ঋণ ছাড় করেনি।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত বছরের জুলাইয়ে এই অঙ্ক ছিল ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

এ জুলাইয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও জাইকা কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এমনকি চীন, রাশিয়া, এআইআইবিও কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।