ধর্ষণের ‘মিথ্যা’ অভিযোগ করে পুলিশের কাছে ধরা

চট্টগ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 04:32 PM
Updated : 22 Sept 2022, 04:32 PM

চট্টগ্রামে ধর্ষণের অভিযোগকারী এক নারীকে নিয়ে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েও ঘটনার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে পুলিশ।

অভিযোগকারী ৩০ বছর বয়সী ওই নারীকে বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার নোবেল চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই নারীর অভিযোগ ছিল বাকলিয়া থানার নোমান কলেজ রোডের বাস্তুহারা বালুর মাঠ এলাকায় তার পরিচিত তিন ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। যাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই ব্যক্তিই মূলত তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে যায়।”

ঘটনাটি জানার পর বাকলিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল তদন্তে নামে। ওই নারীকে নিয়ে ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানেও যায়।

নোবেল চাকমা বলেন, “এক পর্যায়ে ওই নারীকে ওসিসিতে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বললে ঘটনাস্থলের বিস্তারিত বর্ণনার বিষয়টি আমাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করে। পাশাপাশি ভিকটিম ও ওই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথনেও ঘটনাস্থল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে আসতে বললেও তিনি তা এড়িয়ে যান।”

পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ওসিসিতে নিয়ে যাওয়া ইব্রাহীমকে ভুক্তভোগী নারী চাচাত বোনের স্বামী পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন ইব্রাহীমই তার স্বামী।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, মুছা নামে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিয়োগ জানানো হয়েছে তার বিরোধীপক্ষের কেউ এ নারীর মাধ্যমে এ অভিযোগ এনেছে।

“গাড়িতে তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে ঘটনাস্থল সবকিছুই তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হওয়ায় তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি সাজানো বলে জানিয়েছে।”

বাকলিয়া থানায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই নারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় বলেন, তার স্বামী ইব্রাহীমের পরামর্শে তিনি এই অভিযোগ করেছেন।

উপকমিশনার নোবেল চাকমা বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, অভিযোগকারী নারী কোনো চক্রের সদস্য। তিনি পরিকল্পিতভাবে সবকিছু করেছেন। এমনকি ওসিসিতে গেলে কী কী করতে হবে এবং ধর্ষণের আলামত কীভাতে দেখাতে পারবেন, সবকিছুই তিনি করেছেন।

এ ঘটনায় ওই নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং কী কারণে কাদের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে এ ধরনের অভিযোগ করেছেন সেটি বের করতে ইব্রাহীমকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানান নোবেল চাকমা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক