ছুরিকাহত শ্রমিকের মৃত্যু, ফের কাজ বন্ধ খাতুনগঞ্জে
শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় কোথাও পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। আবার খাতুনগঞ্জে আসা পণ্যগুলোও গাড়ি থেকে নামানো যাচ্ছে না।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে ‘পিকআপ চালকদের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে’ ছুরিকাহত শ্রমিকের মৃত্যুর পর ফের কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শ্রমিকরা।
কোতোয়ালি থানার ওসি জাহেদুল কবির জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মারা যান মো. মাসুদ নামের ওই শ্রমিক।
খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পণ্য ওঠানামার কাজ করতেন মাসুদ। মালামাল নিয়ে আসা এক পিকআপ চালকের সঙ্গে বিতণ্ডার জেরে তাকে ছুরি মারা হয়েছিল বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।
তার মৃত্যুর খবরে খাতুনগঞ্জ বাজারে সকাল থেকে কাজ বন্ধ রেখে পুনরায় বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। দুপুরে বাজারেই মাসুদের জানাজা পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
বৃহত্তর খাতুনগঞ্জ মালামাল লোডিং-আনলোডিং শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, “হামলাকারী গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের কাজ বন্ধ থাকবে।”
এ পরিস্থিতিতে দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় এই পাইকারি বাজারের কার্যক্রম আগের দিনের মতই স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় কোথাও পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। আবার খাতুনগঞ্জে আসা পণ্যগুলোও গাড়ি থেকে নামানো যাচ্ছে না।
কোতোয়ালি থানার ওসি বলেন, “শ্রমিকরা বাজারে মিছিল করছে। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এখনও হয়নি।”
শ্রমিকরা বলছেন, এক পিকআপ চালকের সঙ্গে সোমবার সকালে কথাকাটাকাটি হয়েছিল মাসুদের। এর জেরে সন্ধ্যায় ওই পিকআপ চালক দলবল নিয়ে তার উপর আক্রমণ চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সহকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান শ্রমিকরা। রাতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর কাজে যোগ দেন তারা। হামলাকারীকে ধরতে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয় সে সময়।
হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন মাসুদের ছেলে। তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে সেখানে আসামি করা হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ- কমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, হামলাকারীকে ধরতে তাদের অভিযান চলছে।
আরও খবর
