শ্রমিক ধর্মঘটে স্থবির খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার
শ্রমিকরা বলছেন, সহকর্মীর ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এক শ্রমিক ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনায় তার সহকর্মীদের কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় এই পাইকারি বাজারের কার্যক্রম।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বাজারের শ্রমিকদের এই কর্মসূচিতে পণ্য ওঠানামা ও সরবরাহের কাজ এক প্রকার বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মালামাল নিয়ে আসা পিকআপ চালকরা তাদের এক সহকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।
বৃহত্তর খাতুনগঞ্জ মালামাল লোডিং-আনলোডিং শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকাল (সোমবার) দুপুরে মো. মাসুদ নামে আমাদের এক শ্রমিকের সাথে এক পিকাপ চালকের কথাকাটাকাটি হয়। সন্ধ্যার দিকে তারা কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে এসে মাসুদকে ছুরিকাঘাত করে।”
হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতির কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন কাদের।
খাতুনগঞ্জের আদা-পেঁয়াজের পাইকার মেসার্স নিউ শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক মো. তৈয়ব বলেন, শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় কোথাও পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। আবার খাতুনগঞ্জে আসা পণ্যগুলোও গাড়ি থেকে নামানো যাচ্ছে না।
“বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া মালামালগুলোও পাঠানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন জন মালামাল কিনতে এলেও তাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে রাখা হচ্ছে, কিন্তু মাল সরবরাহ করতে পারছি না।”
বড় এই পাইকারি বাজার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মরিচ, মসলাসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। এসব পণ্য তোলা-নামানোর কাজে প্রতিদিন কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন।
এদিকে শ্রমিকরা ছুরিকাঘাতের যে অভিযোগ করছেন, সে বিষয়ে কেউ মামলা দায়ের করেনি বলে জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শ্রমিকদের বলেছি তারা যেন দ্রুত মামলা করে। আইনগত প্রক্রিয়ায় গিয়ে আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আমরা তাদের সাথে কথা বলছি।”
