যৌতুকের জন্য নির্যাতন: স্ত্রীর মামলায় পুলিশ সার্জেন্টের এক বছরের সাজা
আসামিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফ্ল্যাট কেনার জন্য যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলায় এক পুলিশ সদস্যকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক সোমবার মোস্তাক আহমেদ এই রায় দেন।
দণ্ডিত মো. নাজিম উদ্দিন (৫০) চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার তেকোটা গ্রামের মৃত খায়ের আহম্মেদের ছেলে; পুলিশের সার্জেন্ট পদে থাকা মো. নাজিম উদ্দিন বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত।
ট্রাইব্যুনালের পিপি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুছ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যৌতুকের জন্য স্ত্রীর করা নির্যাতনের মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. নাজিম উদ্দিনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানর এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আপিলের শর্তে আদালত আসামিকে জামিন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পিপি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুছ। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালে মো. নাজিম উদ্দিন লালমনিরহাটের বাসিন্দা ওই নারীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, “একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন নাজিম উদ্দিন। এ টাকার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।
“২০২০ সালের মার্চ ও জুনে একাধিকবার স্ত্রীকে নির্যাতন করেন নাজিম উদ্দিন। সবশেষ ওই বছরের ১৪ জুন সন্ধ্যায় টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। ওই দম্পতি তখন নগরীর কোতোয়ালী থানার অধীন আসকার দিঘীর পাড় এলাকায় থাকতেন। সেসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে নাজিম উদ্দিনের স্ত্রীকে উদ্ধার করে। পরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।”
ঘটনার পর আদালতে মামলা দায়ের আবেদন করা হলে নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা রেকর্ড করার আদেশ দেয় আদালত। এরপর ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট থানায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
মামলা চলাকালে এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। মো. নাজিম উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার আগে ঢাকায় আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত ছিলেন।
