চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভ সমাবেশ, সড়ক অবরোধ
“আন্দোলকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। এখন যান চলাচল শুরু হয়েছে,” বলেন কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ।
ঢাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর সদস্যদের মারামারির ঘটনার পর চট্টগ্রামে দুই দফা বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ।
সোমবার বিকালে প্রথম দফায় নগরীর জামালখান এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন তারা। পরে সন্ধ্যায় কর্ণফুলী এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী তৃতীয় সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে তারা সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এতে যানজট বাড়তে থাকলে পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চলে তাদের বিক্ষোভ।
এসময় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা গেছে।
এছাড়া তারা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, ঢাকায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে অকারণে আক্রমণ করা হয়েছে। তারা এর বিচার দাবি করেন।
অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে দাবি করে চাকরিচ্যুতদের কয়েকজন বলেন, পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন তারা।
রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে চাকরিচ্যুত আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয় বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আন্দোলকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। এখন যান চলাচল শুরু হয়েছে। যানজট কমাতে আমরা কাজ করছি।”
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরীর জামালখান এলাকায় একই দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করে।
এদিন সকালে ঢাকার দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে জামায়াতপন্থি একদল গ্রাহক মারামারিতে জড়ায়।
.
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে পশ্চিম দিকে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুতরা। আর সড়কের অপর পাশে অবস্থান নেন তাদের বিরোধী জামায়াতপন্থি একদল গ্রাহক, যারা ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে গত মে মাস থেকে ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনে সরব রয়েছেন।
পুলিশের উপস্থিতিতেই একপর্যায়ে দুই পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়ায়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। পরে চাকরিচ্যুতরা সেখান থেকে সরে যান, আর ওই গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।
এ ঘটনায় জামায়াতপন্থিদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদ এবং পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করলেন চাকরিচ্যুতদের একটি একটি অংশ।
সন্ধ্যায় সড়ক অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ওই অংশ পার হতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম নগরী থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারমুখী যাত্রীবাহী গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের অধিকাংশই এ পথে চলাচল করে।
পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরমুখী যাত্রী মঈনুল ইসলাম খান বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে গাড়ি চলতে পারছিল না। বাধ্য হয়ে মইজ্জ্যারটেক থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত হেঁটে আসতে হয়েছে। গরমে শিশু ও বয়স্কদের খুব কষ্ট হয়েছে।
আরও পড়ুন:
