২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

এনসিটির ‘ইজারা’ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি, দুইদিন কর্মবিরতির ঘোষণা শ্রমিক দলের

“নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে যা করবে আমরা তখন দেখব। নিশ্চয় একটি গণতান্ত্রিক সরকার গণমানুষের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিবে।”

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jan 2026, 01:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:49 PM

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডকে’ ইজারা দিতে যে চুক্তি হতে যাচ্ছে তা বাতিলের দাবিতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল দুইদিনের কর্মসূচি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে সম্ভাব্য চুক্তি থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। চুক্তি বাতিল না হলে, শনিবার বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ এবং রোববার বন্দরের অফিস ও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। 

এরপর দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন শ্রমিক দলের বিক্ষোভকারীরা। ওই মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে কয়েকশ শ্রমিক কর্মচারী অংশ নেয়। 

কর্মসূচি নিয়ে শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দিতে চুক্তি করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাতিল না করে তাহলে আমরা শনিবার অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রবিবার অফিস ও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।” 

এরআগে সকালে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালকে (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করে রাখা এবং চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিবাদে’ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দলের নেতা ইব্রাহীম খোকন বলেন, “আগামী ১৩ দিন পরে আমরা একটা নির্বাচিত সরকার পাচ্ছি। কেন তড়িঘড়ি করে ১৩ দিন আগে আমাদের বন্দর দিয়ে দিতে হবে। আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দিই। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে যা করবে আমরা তখন দেখব। নিশ্চয় একটি গণতান্ত্রিক সরকার গণমানুষের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিবে। দেশের স্বার্থ চিন্তা করবে। 

“যার ফলে আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, তড়িঘড়ি করে এটা করা আপনাদের কাজ না। আপনারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রুটিন কাজ করে চলে যাবেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিদেশি কোম্পানি কাছে দিয়ে আপনারা কি বুঝাতে চান আমরা জানি না। আমরা বুঝি না।” 

বন্দর নিয়ে সরকার কিছু করতে চাইলে যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করে ইব্রাহীম খোকন বলেন, “তবে বলতে চাই, যা করেছেন করেছেন। বন্দর নিয়ে আর কিছু করবেন না। যদি করতে যান চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের স্বার্থ রক্ষায়, বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষায় যে কোন পদক্ষেপ নিব ইনশাল্লাহ। 

“বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সবগুলো স্থাপনা এই এনসিটির আশেপাশেই। এই এনসিটিটাকে আমরা কেন বিদেশেদিরে কাছে দিয়ে দিতে চাই? আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি, সরকার পিপিপির অধীনে এ জাতীয় চুক্তি করতে চায়। পিপিপির অধীনে কোন বিদ্যমান স্থাপনা চুক্তি করা যায় না। এটা বিদ্যমান স্থাপনা, এটা চুক্তি করার কোন বিধি সরকারের হাতে নেই।”

ইব্রাহীম খোকন বলেন, “সরকার গায়ের জোরে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিতে চায়। এতে করে অর্থনৈতিকভাবে যেমন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব, নিরাপত্তার দিক থেকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

“সমুদ্রপথে শক্তি প্রদর্শনের যে বিষয়টা। চায়না, ইন্ডিয়া, আমেরিকার যে সামরিক একটা অবস্থান তৈরি করা ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশের উপর তাদের যে প্রচেষ্টা সেটার কারণেই বন্দর বিদেশিদের দিতে চায়।”

তিনি বলেন, “সরকার কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে নানাভাবে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি। কোনোভাবেই আমাদের কথা তারা কর্ণপাত করছেন না। আদালতে মামলা চলছে। আদালতের উপর প্রভাব বিস্তার করে তারা গায়ের জোরে চুক্তি করার সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন করছে। এই ধরণের পদক্ষেপ যদি আর এগিয়ে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে বন্ধ করে যে কোন কর্মসূচি হাতে নিতে আমরা বাধ্য হব।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর, মোজাহের হোসেন শওকত, আনোয়ারুল আজিম রিংকু, আবুল কালম আজাদ, আবদুর রউফ লিটন, শেখ ছানুয়ার মিয়া, শামসুর রহমান স্বপন, আকতার হোসেন, মঞ্জুরুল পারেভজ সুমনসহ অনেকে।