সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ ৮ শ্রমিকের মৃত্যু
হাউজ কিপিংয়ের কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ‘বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে’ ৮ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
শুক্রবার সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউজ কিপিংয়ের কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
জাহাজটির একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের ঘটনা দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা এগিয়ে যায়। তাদের কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়লে পাঠানো হয় হাসপাতালে।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান দুপুরে জানান, এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। একজন চিকিৎসাধীন আছেন।
ডা. ইশতিয়াক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের শরীরে বিস্ফোরণজনিত আঘাত এবং গ্যাস ইনহেলেশন জনিত প্রভাব পেয়েছি। জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি।”
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সবশেষ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ২ জনের মরদেহ ছিল। তাদের বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মেডিকেল নিহত ৬ জন ছিল। মোট ৮ জন নিহত হয়েছেন।
“আমরা পৌঁছার আগেই আহত কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মোট কতজন আহত তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”
হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা আঙ্গুর মিয়া বলেন, “শ্রমিকরা জাহাজ কাটার কাজ করছিল। তখন গ্যাস ট্যাংকিতে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। নিহতদের মধ্যে আমি দুজনকে চিনি। তারা গাইবান্ধা জেলার মানুষ।”
নিহতদের একজন মনছুরের স্ত্রীর ভাই মহিউদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। এখনো মালিকপক্ষের কেউ আসেনি। মনছুর ও নাছির দুই ভাই মারা গেছেন। তারা ভাটিয়ারির বাসিন্দা।”
ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ বন্ধের দিন। আমাদের শিপ কাটিং ছিল না। গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।
“গ্যাস লিকেজ দেখতে পেয়ে শিফট ইনচার্জসহ তিনজন অফিসার এগিয়ে গেলে তারা অসুস্থ হয়ে যান। তাদের দেখে আরো চারজন এগিয়ে গেলে তারাও অজ্ঞান হয়ে পড়েন।”
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নিগর্মনে ১০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। সকালে এ ঘটনা ঘটে।
“কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত জানতে পারিনি। গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না তা পরিদর্শনের পর জানাতে পারব।”
বিকালে সেনাবাহিনীর একটি দল ওই শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজ নিয়ন্ত্রণ কাজ করতে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
ফায়ার সার্ভিসের সীতাকুণ্ড স্টেশনের স্টেশন অফিসার আল মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শিপ ইয়ার্ডের ভেতরে। উদ্ধার কাজ চলছে।”
