চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: তিন শিশু ছাড়া পরিবারের কেউ রইল না
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্নিগ্ধা, আয়েশা ও আনাছের অবস্থাও ভালো নয়।
চট্টগ্রামে হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে একে একে পরিবারের ছয় সদস্যই চলে গেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে কেবল তিন শিশু।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৩১ বছর বয়সী শিপন হোসাইন মারা গেছেন বলেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।
শরীরের ৮০ শতাংশ পোড়া ক্ষত নিয়ে পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে হার মানলেন শিপন।
তিনি ওই বাসার গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসাইনের ছোট ভাই। সাখাওয়াত বুধবার সকালে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সোমবার গ্যাস বিস্ফোরণের দিন এ পরিবারের দগ্ধ নয়জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথেই সাখাওয়াতের স্ত্রী ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী মারা যান।
পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৭টায় সাখাওয়াতের কিশোর সন্তান ১৬ বছর বয়সী শাওন মারা যায় একই হাসপাতালে।
সেদিন দুপুর ১২টার দিকে মৃত্যু হয় ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের, তিনি সাখাওয়াতের ছোট ভাই।
এরপর মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে মারা যান সামিরের স্ত্রী ৩০ বছর বয়সী আশুরা আক্তার পাখি।
এ নিয়ে পরিবারের ছয় জনের মৃত্যু হল। সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামিরের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছের (৬) অবস্থাও ভালো নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
চিকিৎসাধীন স্নিগ্ধার শরীরের ৩৮ শতাংশ, আনাছের ৩০ ও আয়েশার ৪৫ শতাংশ পুড়েছে।
চট্টগ্রামের হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন সাখাওয়াত।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় সেহেরি খাওয়ার সময় বিস্ফোরণের পরপরই বাসার ভেতরে আগুন ধরে যায়। তারপর শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে একে একে সবাই বের হয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার পরপর প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবার অবস্থাই ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানান। পরে তাদের সবাইকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
পেশায় গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন দেড় বছর আগে। সেখানে তিনি দুই সন্তান, স্ত্রী এবং তার গ্যারেজের এক কর্মচারীসহ পাঁচজন থাকতেন। কদিন আগে তার ছোট ভাই পরিবার নিয়ে তার বাসায় আসেন ডাক্তার দেখাতে।
ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল, চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে এ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনার কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
