দেশের জন্য স্বামী জান দিয়েছে, বিচার চাই: র্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের স্ত্রী
নিহত মোতালেবের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহীদুর রহমান।
জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের যখন জানাযা প্রস্তুতি চলছিল, তখন দুই সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছিলেন তার স্ত্রী শামসুন নাহার।
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলছিলেন, “আমার স্বামী দেশ প্রেমিক, দেশকে অনেক ভালোবাসে। এ জন্য আমার স্বামী জান দিয়েছে, নাহলে পালিয়ে আসতে পারত।”
চট্টগ্রামে র্যাব-৭ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার দুপুরে মোতালেব হোসেনের জানাযা হয়েছে। সেখানে র্যাব প্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কুমিল্লা সদর উপজেলার অলিনগরের বাসিন্দা মোতালেবের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও স্বজনরাও যান সেখানে।
আহাজারি করতে করতে শামসুন নাহার বলতে থাকেন, “আমার স্বামীর কিছু রাখে নাই। এত কষ্ট দিছে। এ সন্ত্রাসীরা যেন বাংলাদেশে না থাকে। তাদের যেন বড় বিচার হয়।
“আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই।”
মোতালেবের দুই মেয়েও কিছুক্ষণ পরপর ‘আব্বু আব্বু’ বলে কাঁদছিল।
সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয় র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। আহত অবস্থায় আরও তিনজনকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে র্যাব -৭ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। তখন র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।”
হামলায় নিহত মোতালেবের জানাযায় র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহীদুর রহমানও অংশ নেন। তিনি মোতালেবের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি র্যাবের পক্ষ থেকে মোতালেবের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন সাংবাদিকদের।
র্যাব প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, “শহীদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার স্ত্রী স্বামী হারিয়েছে, সন্তানরা বাবা হারিয়েছে। আমরা হয়ত তাকে এনে দিতে পারব না। তবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই এ পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করলাম, যাতে মোতালেবের পরিবার তার অবর্তমানে যে কষ্ট, সেটা যাতে তারা মোকাবেল না করে।”
আরও পড়ুন-
