উইকেট যেমনই হোক, ‘হার্ড ওয়ার্ক’ দেখতে চান সিমন্স
মিরপুর টেস্টের উইকেট নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
‘না! না! এটি একদমই গত বছরের মতো নয়’- সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বেরিয়ে যাওয়ার পথে ছোট্ট করে বললেন ড্যারেন স্যামি। গত বছর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসে মিরপুরের স্পিন মঞ্চে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এবার টেস্টের উইকেট দেখে তেমন মনে হয়নি ক্যারিবিয়ান প্রধান কোচের।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য এখনও উইকেট দেখার সুযোগ পাননি। তবে পিচ যেমনই হোক, দলের কাছ থেকে কঠোর পরিশ্রম দেখতে চান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার অপেক্ষায়ই আছেন সিমন্স।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজ। ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে দুই ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই তাদের সামনে।
সিরিজ শুরুর আগে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বড় অংশজুড়েই মিরপুরের উইকেট। কয়েক বছর আগেও উপমহাদেশের বাইরের দেশগুলোর বিপক্ষে স্পিনিং উইকেট বানিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করত বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের উত্থানের পর সেই ভাবনা দূরে ঠেলে স্পোর্টিং উইকেটে খেলছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এতে মিলছে সাফল্যও। ঘরের মাঠে সবশেষ পাঁচ টেস্ট জিতেছে তারা। এর আগে সিলেটে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও ছিল দারুণ এক জয়।
এবার তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোন পরিকল্পনায় এগোবে দল? সিরিজের উইকেট থেকেই বা কেমন প্রত্যাশা দলের? সোমবার অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে সেই সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু বলেননি সিমন্স।
“এখনও উইকেট দেখিনি। আমি গত রাতে এসেছি। এই সিরিজ থেকে আমার প্রত্যাশা, কঠোর পরিশ্রম। আমি মনে করি, সিরিজটা বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। ভারতে যাওয়ার আগে তারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ঘরের মাঠে কয়েকটি সিরিজ খেলেছে এবং ভালো পারফরম্যান্সও করেছে। তাই আমার প্রত্যাশা, এবারও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।”
প্রস্তুতির জায়গা থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দারুণ অবস্থায়। ভারতের মাঠে সাদা বলের দুই সংস্করণে সিরিজ খেলেছে টেস্ট দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। এর ফাঁকে বাংলাদেশ সফরের জন্য চেন্নাইয়ে গিয়ে লাল বলের প্রস্তুতি ক্যাম্পও সেরেছে তারা।
প্রথাগতভাবে চেন্নাইয়ের উইকেটের আচরণ অনেক সময়ই মিলে যায় মিরপুরের সঙ্গে। সেই ভাবনা থেকেই চেন্নাইয়ে প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত কিনা, জানতে চাওয়া হলে সরাসরি উত্তর দেননি স্যামি। বরং নিজ দলের সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতিতেই জোর দিলেন সফরকারীদের প্রধান কোচ।
“বোর্ড হিসেবে এই বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি, যাতে ক্রিকেটাররার প্রস্তুতির সর্বোচ্চ সুযোগ পায়। আমাদের ওয়ানডে দল সেখানে ছিল। আমরা মনে করেছি, চেন্নাইয়ে প্রস্তুতির জন্য দারুণ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
“আগেও বলেছি, ভালো প্রস্তুতি নিতে পারলে পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা বাড়ে- এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এই সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি দেখে আমার মনে হয়েছে, তারা ভালোভাবেই তৈরি হয়েছে। আশা করি, প্রস্তুতির সেই ছাপ মাঠের পারফরম্যান্সেও দেখা যাবে।”
গত বছর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেবার ওয়ানডে সিরিজে মিরপুরে কালো উইকেটে পুরোপুরি স্পিন মঞ্চ সাজিয়েছিল স্বাগতিকরা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুই দল মিলিয়ে এক ওভারও দেখা যায়নি পেস বোলিং।
বছর ঘুরে এবার টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে স্যামির দল। তবে এবারের উইকেট যে স্পিন স্বর্গ নয়, তা নিশ্চিত করলেন ক্যারিবিয়ানদের সাবেক অধিনায়ক।
“আমি উইকেট দেখেছি। না! না! এটি একদমই গত বছরের মতো নয়।”
