‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কি গুরুত্ব দেয় অস্ট্রেলিয়া?’ প্রশ্ন অশ্বিনের
ওয়ানডে বিশ্বকাপের ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা টি-টোয়েন্টির শিরোপা জিতেছে মাত্র একবার, এবার ছিটকে গেছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ে অস্ট্রেলিয়ার ধারেকাছে নেই কেউ। সেই দলটিই সাদা বলের অন্য সংস্করণের বিশ্বকাপে ততটা উজ্জ্বল নয়। এবার তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল তারা। এই ব্যর্থতার পেছনে একটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। ভারতের সাবেক স্পিনারের ধারণা, বিশ ওভারের বিশ্বকাপকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নিচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া।
৫০ ওভার ক্রিকেটের বিশ্বকাপে ছয়বার শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। এই সংস্করণের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দুইবারের বেশি ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি আর কোনো দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উল্টো চিত্র অস্ট্রেলিয়ার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রতিযোগিতার সপ্তম আসরে এসে ২০২১ সালে প্রথম ও একমাত্র শিরোপার স্বাদ পায় তারা। পরের দুই আসরে নকআউট পর্বই উঠতে পারেনি বিশ্ব ক্রিকেটের এই পরাশক্তি।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগেই। সুপার এইটে জায়গা করে নেওয়া জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে গেছে তারা।
তবে এবারের অস্ট্রেলিয়া দলে ঘাটতি ছিল প্রচুর। চোট সমস্যায় দলের সেরা দুই পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হেইজেলউডকে পায়নি তারা। আরেক তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক তো বিশ্বকাপের আগে দিয়ে নিয়েছেন অবসর।
চোটের কারণে আসরের শুরু থেকে টিম ডেভিডকে পায়নি অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পরও তাদের পিছু ছাড়েনি চোট সমস্যা। এই কারণে প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেন দলের অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
তবুও অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি দল গ্রুপ পর্বের চ্যালেঞ্জ পার করতে পারবে না, বিশ্বাসই হচ্ছে না অশ্বিনের। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দলটির তাড়না নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
“অস্ট্রেলিয়া সেরা আটে জায়গা করে নিতে পারেনি, এটা বিশ্বাস করার মতো? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া খুব একটা ভালো করতে পারছে না। তারা কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে? আমি জানি তাদের প্যাট কামিন্স, জশ হেইজেলউড ছিল না, স্টার্কও অবসর নিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে কিছু অর্জনের জন্য তারা যথেষ্ট চেষ্টা করছে কি না, আমি নিশ্চিত নই।”
এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া থেকে খুব ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল না অশ্বিনেরও। তবে এতটাও খারাপ করবেন হেড-মার্শরা, আশা করেননি তিনি।
“তাদের মতো একটি ক্রিকেট জাতি, যাদের সম্ভাবনা, মান ও গভীরতা অনেক, আমার মনে হয় তারা যদি সংগঠিত প্রচেষ্টা চালায়, তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে আরও ভালো করতে দেখতে পাব। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের আসলে খুব একটা সুযোগ ছিল বলে আমি মনে করি না। সুপার এইটে ভারত-অস্ট্রেলিয়া লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলাম।”
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শুক্রবার ওমানের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া।
